শিরোপা আগে, ভবিষ্যৎ পরে-মার্টিনেজের চোখে শুধু ফাইনাল

বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সাধারণত থাকে কৌশল, একাদশ কিংবা প্রতিপক্ষকে ঘিরে পরিকল্পনা। তবে এবার আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে তার ভবিষ্যৎ। কারণ, রোববার স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল জিততে পারলেই তিনি পূরণ করবেন নিজেরই করা একটি পুরোনো প্রতিশ্রুতির শর্ত-দুটি বিশ্বকাপ জয়।

২০২৪ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত এক ভিডিওতে মার্টিনেজ বলেছিলেন, দুটি বিশ্বকাপ জিততে পারলে তিনি অবসরের কথা ভাববেন। সেই মন্তব্যই আবার সামনে এসেছে নিউ জার্সির ফাইনালের আগে। তবে এবার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষকের কণ্ঠে ছিল ভিন্ন সুর।

সংবাদ সম্মেলনে অবসর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মার্টিনেজ জানিয়ে দেন, এখন এসব ভাবার সময় নয়। অনুশীলনের সময় সতীর্থ নিকোলাসের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আপাতত তাঁর পুরো মনোযোগ ফাইনালে। আগে জিততে হবে, তারপর অন্য কিছু নিয়ে ভাবার সুযোগ থাকবে-এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি!

আর্জেন্টিনার সামনে এবার শুধু আরেকটি শিরোপা জয়ের সুযোগ নয়, ইতিহাস গড়ার হাতছানিও রয়েছে। স্পেনকে হারাতে পারলে ইতালি ও ব্রাজিলের পর মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে লিওনেল স্কালোনির দল। সেই অভিযানের অন্যতম বড় ভরসা মার্টিনেজ।

বড় মঞ্চে তার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। বিশেষ করে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস যেন কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস এবং ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তাঁর অসাধারণ পেনাল্টি সেভই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় শক্তি জুগিয়েছিল।

তবে এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত টাইব্রেকারের প্রয়োজন পড়েনি। নকআউট পর্বের প্রতিটি বাধাই নির্ধারিত সময় কিংবা অতিরিক্ত সময়ে পার করেছে আর্জেন্টিনা। ফলে আগের আসরের মতো নাটকীয় নায়ক হওয়ার সুযোগও পাননি মার্টিনেজ।

বরং তিনি মনে করছেন, চার বছর আগের চেয়ে এবার আরও পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে পা দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং রক্ষণ থেকে খেলা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নিজেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে করছেন। কাতার বিশ্বকাপের শুরুতে সৌদি আরবের বিপক্ষে হারের হতাশার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেদিন খুব বেশি শটের মুখোমুখি না হয়েও দুই গোল হজম করতে হয়েছিল। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে টানা জয় তুলে নিয়েই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা।

সেই অভিজ্ঞতার কারণেই এবার বিশ্বকাপকে আরও বেশি উপভোগ করছেন বলে জানিয়েছেন মার্টিনেজ। ফাইনালের আগে তার আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে ছিল আরেকটি বার্তা-মাঠে তাঁকে হাসিমুখেই দেখা যাবে।

ফাইনালের আগে জার্সি নিয়েও সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ফিফা। দুই দলই নিজেদের ঐতিহ্যবাহী হোম জার্সিতে খেলবে। আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সি, সাদা শর্টস ও সাদা মোজা পরে। এই জার্সিতেই তারা ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল। অন্যদিকে স্পেন খেলবে লাল জার্সির সঙ্গে গাঢ় নীল শর্টস ও মোজায়, যে পোশাকে তারা ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

জার্সির রঙ হয়তো কেবল একটি প্রতীক। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, বড় ম্যাচে প্রতীকও কখনো কখনো আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত ইতিহাস লেখেন ফুটবলাররাই।

নিউ জার্সির ফাইনালে আর্জেন্টিনা যদি আরেকবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে শুধু দেশটির ফুটবলই নয়, মার্টিনেজের ক্যারিয়ারও পৌঁছে যাবে নতুন এক উচ্চতায়। এরপর তিনি অবসর নেবেন কি না, সেই উত্তর সময়ই দেবে। আপাতত তার চোখে একটিই লক্ষ্য-আর মাত্র একটি জয়, তারপর ইতিহাস!