বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ৬১০ কোটি টাকার হাতছানি

বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের মূল্য কখনোই শুধু একটি সোনালি কাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ইতিহাস, গৌরব, অমরত্ব আর বিপুল অর্থ পুরস্কার। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেন যখন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে, তখন দুই দলের সামনে থাকবে একই সঙ্গে দুটি লক্ষ্য-বিশ্বসেরার মুকুট এবং রেকর্ড ৫ কোটি মার্কিন ডলারের পুরস্কার!

বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৬১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র ৯০ মিনিট, কিংবা প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারের লড়াইয়ের পর নির্ধারিত হবে শুধু নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নই নয়, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্থ পুরস্কারের মালিকও।

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এবার পুরস্কারের অঙ্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ফিফা। মোট ৭২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ পুরস্কার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। চার বছর আগে মোট পুরস্কার ছিল ৪৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ বিশ্ব ফুটবলের বিস্তার, বাণিজ্যিক মূল্য এবং বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিশ্বকাপের অর্থনৈতিক পরিধিও।

তবে ফাইনালের দুই দলই খালি হাতে ফিরবে না। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫ কোটি ডলার, আর রানার্সআপের জন্যও বরাদ্দ রয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ স্থান পাওয়া দল ঘরে তুলবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ সেমিফাইনালে পৌঁছানো চারটি দলই কোটি কোটি ডলারের পুরস্কার নিশ্চিত করেছে।

শুধু শেষ চারের দল নয়, এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। মূল পর্বে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি দল পেয়েছে ৯০ লাখ ডলার। এর সঙ্গে প্রস্তুতি ব্যয় বাবদ অতিরিক্ত ২০ লাখ ডলারও দিয়েছে ফিফা। ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া দলগুলোরও অর্থনৈতিক প্রাপ্তি কম নয়।

অবশ্য অর্থের হিসাবের বাইরে দুই ফাইনালিস্টের লক্ষ্য ভিন্ন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা চাইছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ইতালি ও ব্রাজিলের পর ইতিহাসের তৃতীয় দল হতে। অন্যদিকে স্পেনের লক্ষ্য ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বমুকুট নিজেদের করে নেওয়া।

দুই দলের ফাইনালে ওঠার পথও ছিল আলাদা। আটলান্টায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও এনসো ফার্নান্দেস ও লাউতারো মার্তিনেজের শেষ মুহূর্তের দুই গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে স্পেন অপেক্ষাকৃত নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেই ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ফিরেছে।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালটি শুধু দুটি ফুটবল পরাশক্তির লড়াই নয়। এটি ইতিহাস, মর্যাদা এবং বিপুল অর্থমূল্যেরও লড়াই। শেষ বাঁশি বাজার পর যে দল ট্রফি হাতে তুলবে, তাদের অর্জনের তালিকায় যোগ হবে শুধু বিশ্বসেরার স্বীকৃতিই নয়, সঙ্গে থাকবে ৫ কোটি ডলারের রেকর্ড অর্থ পুরস্কারও। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী-ই বা হতে পারে!