সদ্য ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ভৌগোলিকভাবে উপযুক্ত ও ন্যায্য স্থানে স্থাপনের দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চার ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এসময় তারা মুখে কালো কাপড় বেঁধে ভূজপুরে উপজেলা সদরের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণার কথা উল্লেখ করে প্রতিবাদও জানান।
আন্দোলনকারীদের দাবি, জনস্বার্থ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় উপজেলা সদর দপ্তরের স্থান পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উত্তর ফটিকছড়ির ভূজপুর, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা এই চার ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। তাই চার ইউনিয়নের ভৌগোলিক মধ্যবর্তী স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে সাধারণ মানুষ সহজে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। কিন্তু ভৌগোলিক বাস্তবতা ও স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে কেবল ভূজপুরে উপজেলা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যা ন্যায়সংগত নয়।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে আন্দোলনকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ভৌগোলিক বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জনস্বার্থ এবং স্থানীয় জনগণের মতামত বিবেচনায় নিয়ে উপজেলা সদর দপ্তরের স্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব শাহজাহান সিরাজ বলেন, উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার চার ইউনিয়নের মানুষের জন্য সমানভাবে সহজে যাতায়াত করা যায়- এমন স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর হওয়াই যৌক্তিক। আমরা কোনো ব্যক্তি বা এলাকার বিরুদ্ধে নই; আমরা একটি ন্যায্য, জনবান্ধব ও ভৌগোলিকভাবে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত চাই। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, জনগণের মতামত ও বাস্তবতা বিবেচনায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
আন্দোলনের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন সিদ্দিকি সোহেল বলেন, আমাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। চার ইউনিয়নের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই আমরা আন্দোলন করছি। আশা করি সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সিদ্ধান্ত নেবে।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ বলেন, উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণে ভৌগোলিক বাস্তবতা, জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক সুবিধাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। চার ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে একতরফাভাবে ভূজপুরে উপজেলা কার্যক্রম শুরু খবর জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, উপজেলা সদর-সংক্রান্ত বিরোধের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভূজপুরে ইউএনওর কার্যক্রম স্থগিত রাখা হোক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে জনগণের জন্য সর্বাধিক উপযোগী স্থানে উপজেলা সদর নির্ধারণ করা হোক।
একদিকে ভূজপুরে নতুন উপজেলার কার্যক্রম শুরু বিষয়ে জানতে জাইতে চাইলে নবনিযুক্ত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বার্তা২৪.কমকে বলেন, যেদিন থেকে আমাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সেদিন থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে আজকে ভূজপুরে অফিস করার ঘোষণার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। আমাদের এখনো অফিস ভাড়া নেওয়া হয়নি। সব পর্যায়ক্রমে হবে। আপাতত ফটিকছড়ির কার্যালয়ে বসে অতিরিক্ত দায়িত্বের কাজগুলো করা হচ্ছে।





