স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে ১-০ গোলে হারের পর আবেগাপ্লুত লিওনেল স্কালোনি স্বীকার করেছেন, আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্বে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত নন। টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর নিজের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবার জন্য সময় চান তিনি।
২০১৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার দায়িত্ব পান স্কালোনি। কোচ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা সীমিত থাকায় শুরুতে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সংশয়কে সাফল্যে রূপ দেন তিনি। তার অধীনেই ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা, ২০২২ বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় দলটি এবং ২০২৬ বিশ্বকাপেও ফাইনালে পৌঁছায়।
ফাইনালের পর সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘আমি ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার কিছু ভাবনা আছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি দায়িত্বে আছি, কিন্তু এখন আমার নিজের জন্য কিছু সময় দরকার। এত বড় অর্জনের পর আবার একই জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব কি না, সেটিও ভাবতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি সভাপতির কাছে কৃতজ্ঞ। তখন এটি ছিল স্বপ্নের মতো একটি জায়গা। আমি, আমার কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন আমার মনে হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে শান্তভাবে ভাবার সময় এসেছে।’
স্কালোনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় কোচ, যিনি দলকে টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছেন। এর আগে কার্লোস বিলার্দো ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৯০ সালেও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। তবে কোপা আমেরিকায় স্কালোনির সাফল্য তাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
যদিও তিনি দায়িত্বে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবুও আগামী কয়েক বছরে আর্জেন্টিনা দল বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এছাড়া ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা বেশ কয়েকজন ফুটবলারের জায়গায় নতুন মুখ আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে স্কালোনি বলেন, ‘আমি বা আমার কোচিং স্টাফ কেউই কখনো ভাবিনি যে আমরা এই জায়গায় পৌঁছাতে পারব। কিন্তু এগিয়ে যেতে হলে মানসিকভাবে নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলতে হয়। এমন একটি দল আবার তৈরি করা খুব কঠিন। সত্যিই এটি খুব কষ্টের সময়।’
তবে ফাইনালের ফল নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি আর্জেন্টিনা কোচ। তিনি স্বীকার করেন, স্পেনই ম্যাচ জয়ের যোগ্য ছিল।
স্কালোনি বলেন, ‘আমরা সমর্থকদের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের শক্তি আমাদের শেষ পর্যন্ত লড়াই করার সাহস দিয়েছে। ম্যাচটি অনেক খোলা ছিল এবং আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, স্পেন জয় পাওয়ারই যোগ্য ছিল। আমাদের সেটি মেনে নিতে হবে। তবুও আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। খেলোয়াড়দের এবং আমাদের এই যাত্রায় সহায়তা করা সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’
ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে। অন্যদিকে, টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায় আর্জেন্টিনার।





