স্বাধীনতার অর্ধশতাধিক বছর পর দীর্ঘদিনের সীমান্ত জটিলতা কাটিয়ে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী এলাকায় শূন্যরেখায় দৃশ্যমান হচ্ছে নতুন সড়ক ব্যবস্থা। সোমেশ্বরী নদী শাসনের মাধ্যমে নদীর পাড় বাঁধাই করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গ্রামবাসীদের চলাচলের জন্য সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্রিজসহ সড়কটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে অবহেলিত পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও সীমান্তরক্ষী বিজিবির দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগের অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবারও উন্নতি হবে এই সীমান্তবর্তী জনপদে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা কয়েকটি ঝরনাছড়া নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী ভবানীপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে সোমেশ্বরী নদীতে গিয়ে মিশেছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে গ্রামটি। এর সঙ্গে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙনও তীব্র হয়েছে। একপর্যায়ে ভাঙন শূন্যরেখা পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও গ্রামটির মানুষের চলাচলের জন্য নিজস্ব সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যদের অনেক সময় ভারতের পাশ দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। এতে বিজিবি ক্যাম্পসহ গ্রামের কয়েক হাজার পরিবারের মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
শূন্যরেখা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগও বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিএসএফের বাধার মুখে পড়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের এই জটিলতার কারণে ভবানীপুরে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও আগের তুলনায় কমে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
অবশেষে এই ভোগান্তির অবসান ঘটাতে বিজিবির মধ্যস্থতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে নদীর ভেতরে জায়গা তৈরি করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। বালু উত্তোলনে বাধার কারণে কাজটি প্রায় এক বছর পিছিয়ে গেলেও বর্তমানে তা শেষের পথে। ইতোমধ্যে সড়ক বিভাগ ও এলজিইডির পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে প্রথম প্যাকেজে ১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় প্যাকেজে ৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৫ মিটার ভরাটসহ ৩৬০ মিটার নদীর পাড় বাঁধাই করা হচ্ছে।
৩১ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী পিএসসি জানান, সীমান্ত থেকে ৫০ মিটার দূর দিয়ে ১ হাজার ৪৪০ মিটার সড়ক নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে বিজিবি। ২০২৩ সালে বিএসএফ ও বিজিবির বৈঠকের মাধ্যমে এ বিষয়ে অনুমোদন নেওয়া হয়। সড়কটির নির্মাণকাজ শেষের পথে। এটি চালু হলে দীর্ঘদিনের চলাচল থেকে বঞ্চিত গ্রামবাসী সুফল পাবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভবানীপুরের বিলীন হয়ে যাওয়া রাস্তার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে বিজিবির সহায়তায় কাজ প্রায় শেষের দিকে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি জটিলতায় আটকে ছিল। আমরা নদীর ভেতরে সড়ক সৃজন করে গ্রামের জন্য ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এই সড়ক দিয়েই মানুষ এখন চলাচল করতে পারবে। এছাড়াও এলজিইডির সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণ করে দেবে।’
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা শুধু আশ্বাস শুনে আসছেন। এবার তারা দ্রুত ব্রিজ ও সড়ক নির্মাণ শেষ করে বাস্তবে যাতায়াতের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে চান।





