রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা কার্যকর হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ওই দিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ চলবে। সংসদ সদস্যরা তাঁদের আসন, বিভক্তি ও জাতীয় নম্বর অনুযায়ী ভোট দেবেন।
তিনি জানান, ভোটগ্রহণ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হলে দ্রুত ব্যালট গণনা করে ফলাফল ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে ভোটগ্রহণ শেষ না হলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। এরপর ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ থাকবে বলেও জানান চিফ হুইপ। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ব্যালট গণনা থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পুরো কার্যক্রমও সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এবং সংসদ সচিবালয় তাঁদের প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে।
সরকারি দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই প্রার্থীর নাম জানা যাবে। মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাই শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট রাত।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে দিতে চান না বলেই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়া উচিত ছিল। গণভোটের রায় সংস্কারের পক্ষে আসায় ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা গেলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হতেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বর্তমান ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে বলে দাবি করেন নূরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। সংবিধান সংশোধন ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো আরও দুটি বিষয় যুক্ত করার প্রস্তাব থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি সেখানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
সভায় জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে সংসদ অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদান এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন চিফ হুইপ। তাঁর মতে, বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রয়োজনীয় সংস্কার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই করা সম্ভব।
ভারতের সংবিধানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ১৯৫০ সালে সংবিধান গ্রহণের পর ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটির সংবিধান ১০৬ বার সংশোধন করা হয়েছে। প্রতিবার সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা হয়েছে; নতুন করে সংবিধান রচনা বা সংবিধান সংশোধন পরিষদ গঠন করা হয়নি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি দাঁড়ি, কমা ও সেমিকোলন যেভাবে আছে, সেভাবেই আমরা বাস্তবায়ন করব।’ তিনি জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী সংসদ অধিবেশনেই একটি নতুন বিল আনা হবে।





