বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম তাঁর নামেই পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতার অধিকারী।
তবে এই দুই দায়িত্ব ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অন্য দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে হয়। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফও করতে পারেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির জন্য বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। তার থাকার জন্য রয়েছে বঙ্গভবনের মতো বিশাল সরকারি বাসভবন। বেতন-ভাতা, পরিবহন, চিকিৎসা, আপ্যায়নসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তার। পদ ছাড়ার পর সাবেক রাষ্ট্রপতিরাও নির্দিষ্ট মেয়াদে সুবিধার আওতায় থাকেন।
রাষ্ট্রপতির মাসিক সম্মানী ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই টাকাকে আয়করমুক্ত রেখেছে সরকার। রাষ্ট্রপতির আপ্যায়ন বা চিত্তবিনোদনের জন্যও বার্ষিক হারে ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে। এই টাকা নিরীক্ষা মুক্ত। রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন তথা বঙ্গভবনের সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। রাষ্ট্রপতির সরকারি যাতায়াতের জন্য গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহনসুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি সরকারি কাজে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত হারে ভাতাও দিয়ে থাকে।
রাষ্ট্রপতির স্বেচ্ছাধীন তহবিল নামে এক নিজস্ব বিশেষ তহবিল রয়েছে। বাৎসরিক হারে এ তহবিলে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় এ অর্থ ব্যয় করতে পারেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা পান। দেশের বাইরে তার চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করে।
রাষ্ট্রপতির জন্য রয়েছে বিমান সুবিধা। এ সুবিধার আওতায় বছরে ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই তহবিলের আওতায় রাষ্ট্রপতির বিমান পরিবহন ব্যয় মেটানো হয়।
এছাড়াও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কিছু সুবিধা ও ক্ষমতা বিদ্যমান। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুর ১ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত সংসদ ভবনে এই ভোটগ্রহণ চলে। এতে সরকারি দলের প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে কর্ণেল অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।





