টি-টোয়েন্টি দলে শান্ত, এশিয়ান গেমসে পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ

এশিয়ান গেমস মানেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাছে আর দশটি টুর্নামেন্টের মতো নয়। ২০১০ সালে এই আসর থেকেই এসেছিল দেশের ক্রিকেটের একমাত্র এশিয়ান গেমস সোনা। সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির লক্ষ্যেই এবার বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। জাপানের আসরে পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশের পূর্ণ শক্তির টি-টোয়েন্টি দল। আর সেই দলে সবচেয়ে বড় চমক নাজমুল হোসেন শান্ত।

টেস্ট অধিনায়ক শান্তকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ দেখা গেছে প্রায় দেড় বছর আগে। দীর্ঘ বিরতির পর এশিয়ান গেমসের দল দিয়ে আবারও এই সংস্করণে ফেরার সুযোগ পেলেন তিনি। জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাসই এশিয়ান গেমসের দলকে নেতৃত্ব দেবেন। দলে জায়গা পেয়েছেন আরেক আলোচিত নাম হাসান মাহমুদ। ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক এই পেসারও প্রায় দেড় বছর ধরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির বাইরে ছিলেন।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানে শুরু হবে এশিয়ান গেমস। ক্রিকেটের ছেলেদের ১০ দলের প্রতিযোগিতা শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের ম্যাচ দিয়ে। র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ। ফলে গ্রুপ পর্বে খেলতে হবে না লিটনদের। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সরাসরি শেষ আটের ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেখানে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হংকং অথবা ওমান।

তবে তাদের অনুসরণ করেই বাংলাদেশের দল নির্বাচন করা হয়েছে- এমন দাবি মানতে নারাজ প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য ২০১০ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি। আমরা আসলে সোনার পদক জিততে চাই, এজন্যই মূল দল বেছে নেওয়া। অন্যরা কী করছে, সেটা বড় কথা নয়। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ একটিই সোনা জিতেছে, সেটি ক্রিকেটেই ২০১০ সালে। এবার একটি সুযোগ হতে পারে। সামনে যদি অলিম্পিকসে ক্রিকেট থাকে, তবে এটা একটা প্রস্তুতি হতে পারে।

শান্তকে দলে নেওয়াটাই এবারের স্কোয়াডে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সর্বশেষ বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে ভালো পারফর্ম করেছিলেন তিনি। একটি সেঞ্চুরিসহ ১৩ ম্যাচে ৩৫৫ রান করেছিলেন ১৩৫.৪৯ স্ট্রাইক রেটে। তবে সেই বিপিএল শেষ হয়েছে প্রায় আট মাস আগে। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে তার খেলা হয়নি। ফলে এই সংস্করণে তার সামর্থ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন রয়েছে।

তবে শান্তকে বেছে নেওয়ার পেছনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন হাবিবুল। তিনি জানান, আমরা আসলে সময়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। মাঝখানে আমাদের অনেক খেলা ছিল। বিপিএলের পর খুব বেশি টি-টোয়েন্টি খেলিনি। একটা ব্যাপার ছিল, টি-টোয়েন্টি দলে কিছু নতুন খেলোয়াড় দেখার দরকার ছিল। আমরা বলেছিলাম, পরবর্তী ছয় মাস কিছু খেলোয়াড় দেখব। বিশ্বকাপের আগে কিছু খেলোয়াড় দেখব, এরপর দেখা বন্ধ হয়ে যাবে। সেখানে যে সুযোগ ছিল তা দেখেছি, সামনে হয়তো আরও দেখব।

তিনি আরও বলেন, ২০২৮ সালে বিশ্বকাপ, এর আগে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে আমাদের খেলা কম। যদি কোনো ক্রিকেটারকে দেখার থাকে এটাই সুযোগ। এরপর আর দেখার সুযোগ থাকবে না। অর্থাৎ এশিয়ান গেমসকে শুধু পদক জয়ের মঞ্চ হিসেবে নয়, ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড় যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবেও দেখছে নির্বাচকরা।

এশিয়ান গেমসের আগে বাংলাদেশ সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে। সেই দল থেকে এবার তিনটি পরিবর্তন এসেছে। ওই সফরের মাঝপথে চোটে পড়া নাহিদ রানা এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার লড়াইয়ে আছেন। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে মাংসপেশির চোটে পড়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। আর লিটন চোট কাটিয়ে ফেরায় কিপার-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানকে জায়গা ছাড়তে হয়েছে।

হাসান মাহমুদের অন্তর্ভুক্তির পেছনে অবশ্য সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও বড় ভূমিকা রেখেছে। লাল বলের ক্রিকেটে আলো ছড়ানোর পাশাপাশি দেশের বাইরের দুই টি-টোয়েন্টি লিগেও খেলেছেন তিনি। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ ও টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট মিলিয়ে ছয় ম্যাচে নিয়েছেন নয় উইকেট। তাসকিন আহমেদের অনুপস্থিতিই হাসানের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের স্কোয়াড- লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয় (সহ-অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলি চৌধুরি, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদি হাসান, নাসুম আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান ও হাসান মাহমুদ।