ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির সুযোগ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। সংগঠনটি প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।
আজ বুধবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি জানান বারভিডার সভাপতি আবদুল হক। তিনি বলেন, রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাত গত পাঁচ দশক ধরে দেশের গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত পরিবহনের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়িত।
আবদুল হক বলেন, দীর্ঘদিনের পথ পাড়ি দিয়ে আসা রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাত আবারও অভিঘাতের মুখে পড়েছে। গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত আমদানি নীতি আদেশে বিদ্যমান সুবিধা বাতিল করে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তার দাবি, নতুন নীতির ফলে গ্রাহকেরা নতুন প্রযুক্তির মোটরযানের সম্ভাবনা ও ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে তরল জ্বালানি আমদানি করতে হয়। প্লাগ-ইন হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।
বারভিডার সভাপতি আরও বলেন, গত পাঁচ দশকে নানা নীতি বৈষম্য, উচ্চ শুল্ক ও নিয়ন্ত্রক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাত দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রেখেছে। স্বল্পমূল্যে মানসম্মত যানবাহনের জোগান দেওয়ার পাশাপাশি এ খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবহনব্যবস্থাকে গতিশীল করা এবং ওয়ার্কশপ, যন্ত্রাংশ, সার্ভিসিং ও বিনিয়োগের বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
বারভিডার মতে, বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক যানবাহন আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে। তাই পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার বিকাশ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের স্বার্থেও বাংলাদেশে রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ রাখা প্রয়োজন।
এ জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে আমদানির আগে অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে কার্যকর পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা, ব্যাটারির ন্যূনতম ৭০ শতাংশ স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) নিশ্চিত করা এবং আমদানিকৃত গাড়ির ব্যাটারির আয়ুষ্কাল সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
এ ছাড়া বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, গুরুতর দুর্ঘটনা বা কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে বারভিডা। একই সঙ্গে ইভি ব্যাটারির জন্য ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ নিষ্পত্তির কাঠামো প্রণয়ন এবং চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিকস ও রিসাইক্লিং খাতে বিনিয়োগে দেওয়া প্রণোদনা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য নির্ধারিত শুল্ক-কাঠামো সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময় পর নীতির ফলাফল মূল্যায়ন করে বয়সসীমাসহ অন্যান্য শর্ত পুনর্বিবেচনার প্রস্তাবও দিয়েছে বারভিডা।
আবদুল হক বলেন, ‘আমরা সরকারের নীতির বিরোধিতা করছি না। বরং পরিবেশ রক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয়, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান- সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যতমুখী নীতি চাই।’
সংগঠনটির আবেদন, আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানির সুযোগ পুনর্বহাল করা হোক। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বারভিডার সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান, সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরী, মো. হাবিব উল্লাহ ডন, সাবেক মহাসচিব মাহবুবুল হক চৌধুরী, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।





