মোদিকে ‌‘স্বৈরাচার’ বললেন শ্রীলেখা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। দিবসটি ঘিরে দেশব্যাপী ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচি পালনের ডাক দেয় ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিষয়টি নিয়ে নিজের ভেতরে থাকা ক্ষোভ উগরে দেন জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।

ফেসবুকে তিনি লেখেন, মানুষকে বলা হচ্ছে প্রদীপ জ্বালাতে। কী এক অদ্ভুত বৈপরীত্য… আমাদের জীবনকে নরকে পরিণত করার পর… এমন আবদার!!!! ঠিক যেন এক বেদনাদায়ক পরিহাস।

মোদি ও তার সমর্থক গোষ্ঠীর আচরণকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে শ্রীলেখা আরও বলেন, একজন স্বৈরাচারী—অথবা এক স্বৈরাচারী গোষ্ঠী—সাধারণ মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনছে: সম্পত্তি ধ্বংস করছে, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে, আর সম্প্রদায়, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিভেদ আরও গভীর করছে; অথচ একই সঙ্গে তারা দাবি করছে যে তারা স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর অবতার! আমরা কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? আমরা কেমন এক সমাজ গড়ে তুলছি যেখানে অন্ধ অনুসারীদের ‘ভক্ত’ হিসেবে মহিমান্বিত করা হয়। আর শিক্ষিত ও ভিন্নমতাবলম্বীদের তকমা দেওয়া হয় ‘দিমাগি নকশাল’ হিসেবে? এমন একসময় যখন ভয়ই হয়ে ওঠে শাসনের হাতিয়ার আর ভিন্নমতকে দেখা হয় বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে? আর তারপর আমাদের বলা হচ্ছে প্রদীপ জ্বালাতে। কী এক ঘোরতর পরিহাস। কী এক অন্ধকার যুগে আমরা বাস করছি!

শ্রীলেখার ওই পোস্টে অনেকেই তার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন। একজন লেখেন, ‘আমি আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে আমার বাড়ির সব আলো নিভিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি… এটাই তো প্রদীপ জ্বালানোর নির্দিষ্ট সময় তাই না?’ অন্যজন লিখলেন, ‘কিছু মানুষ বুঝছেন আর কিছু মানুষ বুঝেও নিজেদের স্বার্থ, জীবিকা সুরক্ষিত রাখতে চুপ।’ অন্য কমেন্টে লেখা হয়, ‘প্রদীপের নিচেই তো আসল অন্ধকার।’

বরাবরই মোদির সমালোচক হিসেবে পরিচিত শ্রীলেখা এর আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র আন্দোলনে মোদিবিরোধী প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরে রাজ্য বিজেপির রোষানলে পড়েন। যার জেরে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

এখন দেখার বিষয়, তার এবারের মন্তব্যে কী প্রতিক্রিয়া দেখান রাজ্য বিজেপির নেতারা।