রিয়াদে ভোরে বিস্ফোরণের শব্দ, বিমান হামলার সতর্কতা জারি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে শনিবার ভোরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর কিছুক্ষণ আগে রাজধানীসহ দেশটির কয়েকটি এলাকায় সম্ভাব্য বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ৩টার কিছু আগে রিয়াদের বাসিন্দাদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, তাদের এলাকা ‘শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলার হুমকির’ মধ্যে রয়েছে। এ সময় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সতর্কবার্তা জারির কিছুক্ষণ পর এএফপির সাংবাদিকরা রিয়াদে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান। প্রায় আধা ঘণ্টা পর সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ বিমান হামলার সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবেও উত্তেজনা বেড়েছে। জুলাইয়ে প্রতিবেশী ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর এই প্রথম সৌদি রাজধানী রিয়াদ সরাসরি এর প্রভাবের মুখে পড়ল।

ইয়েমেনের জনবহুল অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে থাকা হুতিরা চলতি মাসে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপরও তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে বাব আল-মান্দাব ব্যবহার করে আসছিল। তবে হুতিরা এখন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ওই সমুদ্রপথে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে।

সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের পর থেকে বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি কমেছে। তবে গত এক সপ্তাহে সৌদি তেলবাহী পাঁচটি জাহাজ ওই পথ দিয়ে চলাচল করেছে।

হুতিরা অবশ্য দাবি করেছে, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের জন্য বাব আল-মান্দাব প্রণালি উন্মুক্ত এবং সেখানে অবাধে চলাচলের সুযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘ শুক্রবার জানিয়েছে, নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩ হাজার মানুষ সমুদ্রপথে পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে। ফলে আগে থেকেই ভয়াবহ মানবিক সংকটে থাকা ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ, এএফপি।