নতুন পে স্কেলের প্রস্তুতি সরকারের

সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ ও বাজেট ঘাটতির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নতুন পে স্কেল দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিলেও সরকার সেই পথে হাঁটছে না। আগামী অক্টোবরে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার আগেই নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্থ বিভাগ। চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে এ বিষয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও অর্থসচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। তবে এককালীন আর্থিক চাপ সামলাতে এটি ধাপে ধাপে কার্যকর করার কথা বিবেচনা করা হতে পারে।

২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল কার্যকর করার পর থেকে বিগত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে প্রায় ১৫ লাখ চাকরিজীবী ও কয়েক লাখ পেনশনভোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যদিও কোনো কোনো অর্থনীতিবিদের মতে, নতুন পে স্কেলের কারণে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমানে বাংলাদেশ আইএমএফের ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণের পাশাপাশি নতুন ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছে। সংস্থাটি চাচ্ছে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি অন্তত অক্টোবর বা নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রেখে বিস্তারিত পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হোক। তবে সরকার বিষয়টি দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত গেজেট প্রকাশে বদ্ধপরিকর। সব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সচিব কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের পরেই মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনে গেজেট প্রকাশের পথ সুগম হবে।