আজব সব ফল

রং, রস , আকার, স্বাদ এবং দর্শনে দেশে দেশে ফলেও রয়েছে ভিন্নতা। যা আমাদের অজানা। সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন কিছু ফল যা দেখতে ভিন্ন এবং
দেখতে চমৎকার সেসব ফল নিয়ে আমাদের এবারের প্রতিবেদন।

এই তরমুজকে বলা হয় মাউস মেলন। যার আকার প্রায় ১.৫-২ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আকারে ছোট হওয়ায় এই তরমুজকে মাউস-মেলন বলা হয়। এই তরমুজ গুলোকে মেক্সিকো ও মধ্য এশিয়া তে পাওয়া যায়। এই তরমুজ টি টক স্বাদযুক্ত হয়ে থাকে।

মানুষের হাতের আকারের মত দেখতে হয় এই ফলটিকে বলা হয় Buddhas । ১ম বার দেখলে মনেই হয় না যে এটি কোন ফল। প্রথম বার এটিকে দেখলে মনে হয় যেন এটি মানুষের হাত বা অক্টোপাস। এই ফলগুলো সাধারণত বেশিরভাগ জাপান, কোরিয়া, চায়না তে পাওয়া যায়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে, এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে দামি ফলগুলোর মধ্যে এই ফলটি একটি। এশিয়া মহাদেশের যে সকল দেশে এই ফল পাওয়া যায় তার প্রত্যেকটি দেশে এই ফলটিকে প্রায় ৪০০০ টাকা টাকা কেজিতে বিক্রি করা হয়। এই ফলটি অনেক মিষ্টি স্বাদ যুক্ত হয়ে থাকে।

আমরা সাধারণত হলুদ রঙের কলা দেখেছি এবং খেয়েছি। কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন যে আমাদের এই পৃথিবীতে লাল ও নীল রঙের কলাও পাওয়া যায়। এই কলাগুলোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিইড ও পটাশিয়াম রয়েছে। যার কারণে এই কলাগুলো লাল এবং নীল রং ধারণ করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশেই এই লাল-নীল কলা পাওয়া যায়। পৃথিবীতে যত কলা আছে তার মধ্যে কেবল মাত্র ৫ ভাগ কলাই এই লাল নীল রঙের হয়ে থাকে বাকি ৯৫ ভাগ কলা হলুদ রঙের হয়।

মূলত আয়ারল্যান্ড, মালয়েশিয়া , অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে এই ফলটি পাওয়া যায়। ফলের নাম অনুযায়ী এই গাছটিকে বলা হয় হালা ট্রি। ফলটির স্বাদ অনেকটা কমলা লেবু এবং আখের সংমিশ্রণের মত। ফলটি যখন কাঁচা থাকে তখন লাল রংয়ের হয় এবং খুব বেশি পাকলে কমলা রং ধারণ করে।

এই ফলের নাম পাইন বেরি। দেখতে স্ট্রবেরির মতো দেখতে হলেও এর গায়ে রং একেবারে সাদা ধবধবে। এই ফলের বীজ গুলি লাল রঙের এবং স্বাদে ফাটাফাটি। এই ফলে পাবেন অধিকমাত্রায় ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আপনার ইমিউনিটি সিস্টেমকে মজবুত করবে। তবে এই ফলটি শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালে পাওয়া যায়। অন্য সময় এই ফলটি কিনতে কিন্তু বেশ মোটা টাকা খরচ করতে হতে পারে।

এই ফলটিকে অস্ট্রেলিয়ান লাইম বলা হয়। শুধুমাত্র ক্যালিফোর্নিয়াতে পাওয়া যায়। একটু অদ্ভুত ধরনের কিন্তু এই ফল দিয়ে বানানো হয় নানান মিষ্টি খাবার। শুধু তাই নয়, ওষুধ তৈরিতেও এই ফলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান । এই ছোট্ট ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই এবং পটাশিয়াম। মনে করা হয় যাদের ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তারা যদি রোজ এই ফলটি খান তাহলে খুব তাড়াতাড়ি সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

এই ফলটির নাম চকলেট পুডিং, কাটলে মনে হবে, যেন ভিতর চকলেটে ঠাসা। এই ফলটি চকলেট বানাতে সাহায্য করে। মূলত মেক্সিকোতে পাওয়া যায়। বাইরে থেকে আমের মতো দেখতে হলেও ভিতরের অংশ সম্পূর্ণ আলাদা। পাকতে সময় নেয় প্রায় তিন বছর। কাঁচা অবস্থায় সবুজ থাকে , একটু পাকলে হলুদ আর পুরোপুরি পেকে গেলে গায়ের রং হয় একদম চকলেটের মতো। ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ফলটির স্বাদ একেবারে চকলেট পুডিংয়ের মত।

পৃথিবীর সবথেকে সুন্দরতম ফলগুলোর মধ্যে এই কিওয়ানো তরমুজ যা আফ্রিকান শসা নামেও পরিচিত। কিওয়ানো তরমুজের চারপাশে স্পাইকের মত থাকে। মূলত ফলটি খেতে শসার মতো তবে আরো বেশি পাকলে কলা ও লেবুর সমন্বয়ের মতো এর স্বাদ। এই ফল আফ্রিকা ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়া, চিলি, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডে চাষাবাদ করা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই রয়েছে। লোহিত রক্ত কণিকা উতপাদন, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে, হৃদপিণ্ড, এমনকি ত্বকের জন্য এই ফলটি কার্যকর।

ডুরিয়ান পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত ও আশ্চর্যজনক ফল। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গন্ধযুক্ত ফল হিসেবে পরিচিত। শোনা যায় অস্ট্রেলিয়ার একটি ক্যাম্পাসে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ ক্যাম্পাসে একটি নষ্ট ডুরিয়ানের দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পরেছিল। এ থেকে বুঝা যায় ফলটির দূর্গন্ধ কি রকম ভয়ংকর। আবার এর দাম যে কেউ শুনলে আরো অবাক হতে বাধ্য হবে। বাংলাদেশের কাঁঠালের মতো দেখতে এই ফলের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি তার কারণ এর স্বাস্থ্যজনিত উপকারীতা। গ্যাস্ট্রিক, হার্টের দূর্বলতা, দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া, অনিদ্রা, যৌন দূর্বলতা, রক্ত চাপ, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি অনেক রোগের প্রতিরোধক হিসেবে কার্যকরী।

টক আতা বা করোসল মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ফল। এর বাইরের অংশ সবুজ ও ভিতরে অংশ সাদা আর বীজযুক্ত। বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ ফল যা অনেক দেশে ঔষধি বৃক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় বলে এটি অ্যান্টি ক্যান্সার ফল হিসেবে পরিচিত। টক আতা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এই গাছের নির্যাস টিউমারের বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়।

পাও পাও আমেরিকার জনপ্রিয় ফল। এই ফলের বাইরের অংশ হলুদ ও ভিতরের অংশ কমলা রঙের হয়ে থাকে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Asimina triloba। এই ফল মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং খেতে কলার মত। পাও পাও ফল জ্বর, বমি, মাথা ব্যাথার উপশমে ব্যবহৃত হয়।

রাম্বুটান লিচু জাতীয় ফল। এর বাইরের অংশ লাল টুকটুকে আর কিছুটা নমনীয় কাটাযুক্ত; আর ভিতরে লিচুর মত মাংশল অংশযুক্ত যার মধ্যে একটা বীজ থাকে। রাম্বুটানে রয়েছে প্রোটিন, চর্বি, গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, এমাইনো এসিড। শরীরের ক্ষত স্থান পূরণে, জ্ব্র কমানো, ডায়রিয়া, আমাশয় প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

রুটিফল দেখতে সবুজ রঙের এবং ভিতরের দিক সাদা আঁশযুক্ত। রুটিফল কলার মতোই পাকা ফল বা সবজি হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া নারিকেল, চিনি অথবা গুড়ের সহযোগে খাবার তৈরি করা যায়। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো এটিই একমাত্র ফল যা রুটির মতো সেঁকে খাওয়া হয় তাই একে রুটিফল বলা হয়। এটি উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন ফল যা উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, জিহবার প্রদাহ নিবারণে, বিভিন্ন চর্মরোগ চিকিৎসায় কার্যকরী।