ইংল্যান্ডের বাজির ঘোড়া হ্যারি কেইন

ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইনের গোল করার ক্ষুধা যে এখনই কমছে না, তার বড় প্রমাণ থ্রি লায়নসদের জার্সিতে তার ৭৯টি গোল। আর এই রেকর্ডকে তিনি এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্পর্শ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। সাবেক টটেনহ্যাম ও ইংল্যান্ড তারকা ড্যারেন অ্যান্ডারটন মনে করেন, কেনের সামনে এখনও বেশ কয়েক বছর সময় রয়েছে এবং তিনি চাইলেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোলের সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারেন।

২০১৫ সালে লিথুয়ানিয়ার বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ৮০ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের স্বপ্নীল সূচনা করেছিলেন হ্যারি কেইন। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই তারকা স্ট্রাইকারকে। ২০২১ সালে এক ক্যালেন্ডার ইয়ারেই ক্যারিয়ার সেরা ১৬টি গোল করেছিলেন তিনি, আর তার আগে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। ওয়েন রুনির করা পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ ৫৩ গোলের রেকর্ডকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে যাওয়া কেন এখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তিদের একচ্ছত্র ১০০ গোলের এলিট ক্লাবে যোগ দেওয়ার পথে রয়েছেন।

কেইনের এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্যাসিনো কিংসের সৌজন্যে গোল ডটকমকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ড্যারেন অ্যান্ডারটন বলেন, কেইনের রেকর্ডের বারটি সত্যিই অনেক উঁচুতে গিয়ে থামবে। তার মতে, কেইন কখনোই মাঠে কেবল গতির ওপর নির্ভর করে খেলেননি। সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড টেডি শেরিংহামের উদাহরণ টেনে অ্যান্ডারটন জানান, বয়স বাড়ার সাথে সাথে গতি কিছুটা কমলেও কেইনের খেলায় তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না, কারণ গতি কখনোই তার খেলার মূল শক্তি ছিল না। একই সাথে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইংল্যান্ড দলে এই মুহূর্তে কেইনের বিকল্প হিসেবে তেমন কেউ তৈরি না থাকায়, কেইন যতদিন খুশি ততদিন খেলে যেতে পারবেন।

সময়ের সাথে সাথে হ্যারি কেইন নিজের খেলার ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন। এখন আর তিনি শুধু ডি-বক্সের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেন না বরং কিছুটা নিচে নেমে এসে খেলা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখেন। একজন প্রথাগত উইঙ্গারের জন্য তার এই নিচে নেমে আসার প্রবণতা কিছুটা জটিলতা তৈরি করে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যান্ডারটন কেইনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, কেনের মধ্যে টেডি শেরিংহাম এবং অ্যালান শিয়ারের একটা দারুণ মিশ্রণ রয়েছে, যিনি নিচে নেমে বল বানিয়ে দিয়ে আবার ঠিক সময়ে বক্সে ফিরে এসে গোল করতে পারেন। বিশ্বমানের এই স্ট্রাইকারের সাথে খেলতে যেকোনো উইঙ্গারই পছন্দ করবেন বলে জানান অ্যান্ডারটন।

তবে সদ্য সমাপ্ত টুর্নামেন্টগুলোতে ইংল্যান্ড দলের অতিমাত্রায় রক্ষণাত্মক ও কঠোর ফুটবল কৌশলের কিছুটা সমালোচনাও করেছেন এই সাবেক উইঙ্গার। তিনি উল্লেখ করেন, দল ফাইনালে পৌঁছালেও সেই ধারার ফুটবল হ্যারি কেইনের স্বভাবসুলভ গোল করার ক্ষমতার সাথে পুরোপুরি মানানসই ছিল না।