কেপ ভার্দের কঠিন পরীক্ষায় পাস করে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

অবিশ্বাস্য, নাটকীয় এবং সম্ভবত বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর খেলা উপহার দিলো আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের নবাগত দেশটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শেষ মিনিট পর্যন্ত হাল ছাড়েনি। ১২০ মিনিটে ৫ গোলের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত জিতে শেষ ষোলোয় উঠেছে আর্জেন্টিনা (৩-২)। কেপ ভার্দেকে কি পরাজিত বলা চলে? বিশ্বফুটবলে নিজেদের নামটি স্মরণীয় করে রাখতে যা করা দরকার কেপ ভার্দে সবটুকুই করেছে!

ম্যাচের পরতে পরতে টানটান উত্তেজনা, লড়াকু ও আত্মবিশ্বাসের অবিশ্বাস্য মানসিকতা দেখাল দুই দল। আর্জেন্টিনা ওই পথ পেরিয়েই তো ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জিতেছে। কিন্তু কেপ ভার্দে কীভাবে-কোথা থেকে এত প্রেরণা সঞ্চার করল? অবশ্য প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই স্পেন ও উরুগুয়েকে সমতায় আটকে রাখাই তো কম প্রেরণাদায়ক নয়!

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই ইতিবাচক ছিল কেপ ভার্দে। ২৮তম মিনিটে প্রায় নিজেদের অর্ধ থেকে নিখুঁত এক পাস বাড়িয়েছেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। মেসির দৌড়ে যাওয়ার লাইনেই ছিল সেই বল। যা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর ৭ গজ দূরত্ব থেকে শট নেন তিনি। সেই জোরালো শট কেপ ভার্দে গোলরক্ষক দোসিমার দিয়াজ ভোজিনহার ঠেকানোর সাধ্য ছিল না।

এর আগে বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ সপ্তম ম্যাচে গোলের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন মেসি। এবার অষ্টম ম্যাচেও গোল পেলেন টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এই গোলদাতা। বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাকে মেসি ২০-এ নিয়ে গেলেন। নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে তুঙ্গে থাকা ফর্ম দিয়ে প্রতিপক্ষকে ক্ষত-বিক্ষত করে চলছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা কিছুটা ছন্দ হারাতেই সুযোগটা নিয়েছে কেপ ভার্দে। ৫৯ মিনিটে তারা ডেরয় দুয়ার্তের গোলে আর্জেন্টিনার জাল কাঁপিয়ে স্কোরলাইন ১-১ পরিণত করেছে। রায়ান মেন্দেস ডান প্রান্ত দিয়ে বল বাড়ালে দুয়ার্তে ফাঁকা জায়গা দিয়ে দৌড়ে দুর্দান্ত এক শটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান। আর্জেন্টিনার লিড নেওয়া গোলে অ্যাসিস্ট করা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ দ্রুত এগিয়ে এলেও দুয়ার্তেকে ঠেকাতে পারেননি।

৯০ মিনিটের আগপর্যন্ত সময়টাতে ছিল ভোজিনহার বীরত্বের গল্প। মেসির দুটি দারুণ ‍ফ্রি-কিক বাঁচিয়েছেন তিনি, আরও কয়েকটি দারুণ আক্রমণ পরাস্ত হয়েছে তার সামনে এসে। ফলে ১-১ স্কোরলাইন নিয়ে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। তবে বেশিক্ষণ আর্জেন্টিনাকে অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। আলবিসেলেস্তেদের প্রথম গোলেও বলের যোগান দিয়েছিলেন লিসান্দ্রো। নিজেদের রক্ষণ থেকে তিনি নিঁখুত পাস দিয়েছিলেন। দল যখন লিড পেতে মরিয়া ছিল, আবারও দৃশ্যপটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই সেন্টারব্যাক।

৯১ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল আরেকজনের স্পর্শ পেয়ে একপাশে ফাঁকায় থাকা লিসান্দ্রো পেয়ে যান। হয়তো ধারণা ছিল তিনি ক্রস করবেন, কিন্তু তা না করে দুরূহ কোণ থেকে জোরালো শটে ভোজিনহাকে বোকা বানিয়ে জাল কাঁপিয়েছেন। ১০৩ মিনিটে সেই গোল শোধ করেছেন কেপ ভার্দের সিডনি ক্যাব্রাল। বাঁ প্রান্তে বল পেয়ে তিনি ভেতরের দিকে কাট করেন। ফিরতি বল পেয়ে ডান পায়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট নিয়েই যেন অবাক করা দৃশ্যের জন্ম দিলেন ক্যাব্রাল। হয়তো বলটি এভাবে ফাঁকি দেবে ধারণাও ছিল না এমি মার্টিনেজের।

আর্জেন্টিনাকে আবারও লিড পেতে অপেক্ষা করতে হলো ৮ মিনিট। মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার পেয়ে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হেড দেন, বল জালে জড়িয়ে যাওয়ার আগে সেটি কেপ ভার্দে ডিফেন্ডার হাতে লেগেছে। ফলে আত্মঘাতী গোলের সুবাদে আর্জেন্টিনা লিড পায় ৩-২ ব্যবধানে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেছে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনাও স্বস্তিতে ছিল না। আক্রমণ এবং রক্ষণ দু’দিকেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। শেষমেষ রেফারির শেষ বাঁশিই যেন স্কালোনি শিষ্যদের হাফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ এনে দিলো!