বেলিংহামের প্রথম গোলটির আগে বল তারে লেগেছিল, দাবি নরওয়ের

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ড। তবে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আন্দ্রিয়াস শেলডারুপের গোলে এগিয়ে ছিল স্তলে সুরবাকেনের দল। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়ান লেফট উইঙ্গার আন্দ্রেয়াস শেলডেরুপ।

তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরে টমাস টুকেলের দল। অ্যান্থনি গর্ডনের বাড়ানো পাসে প্রথম স্পর্শেই নিচু শটে বল জালে পাঠান বেলিংহাম। ম্যাচে সমতায় আনা গোলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নরওয়ের কোচ স্তলে সুরবাকেন। তিনি দাবি করেন, বেলিংহামের গোলটি করার ঠিক আগ মুহূর্তে বলটি মাঠের ওপর থাকা একটি ক্যামেরা ক্যাবলে আঘাত করেছিল।

বিরতির সময় কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানানোর সময় সুরবাকেন মাঠের ওপর ঝুলে থাকা মোবাইল ক্যামেরা সিস্টেমটিকে ধরে রাখা তারগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন। কিন্তু তাকে জানানো হয়, রেফারি বিষয়টি দেখেননি এবং ভিএআর-এর পক্ষ থেকেও কোনো সংকেত আসেনি।

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আর্লিং হলান্ডদের কোচ বলেন, বলটি আকাশ থেকে সোজা নিচে পড়েছিল, যার ফলে এর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যায়। এতে আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল এবং সময়টা আমাদের জন্য মোটেও ভালো ছিল না। তবে এ নিয়ে আমাদের আর কিছু করার নেই। আমার মনে হয় না ম্যাচটি পুনরায় খেলা হবে। পরিস্থিতিটা আসলে এমনই।

ম্যাচ চলাকালীন ফিফা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতিকে জানিয়েছে, বলটি মাথার ওপর দিয়ে যাওয়া তারে (ওভারহেড ওয়্যার) লেগেছে। তবে বলের গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নরওয়ের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় ইংল্যান্ডের গোলের আগে বলটি যখন বাতাসে ছিল তখন ‘কানেক্টেড বল’-এর সেন্সরে বলের ‘হার্টবিট’ বা স্পন্দনে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন (পিক) ধরা পড়েনি। তবে সুরবাকেনের দাবি, তিনি নিজে বলের গতিপথ পরিবর্তন হতে দেখেননি, তবে তার ফুটবলার ও দলের কর্মকর্তারা তা দেখেছিলেন।

তিনি বলেন, যদি কোনো শব্দ না হয়ে থাকে কিংবা চিপ-এর তথ্যে কোনো অস্বাভাবিকতা না পাওয়া যায়, তবে এর বিপরীতে আমি আর কী বলতে পারি? অথচ বলটি যেন আকাশ থেকে সোজা নিচে নেমে এল। গোলরক্ষক ওরজান এবং যিনি বলটি রিসিভ করতে যাচ্ছিলেন তারা সবাই এমনটাই বলেছিলেন। তাই আমার মনে হয় এটা বেশ স্পষ্ট যে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি ছিল অদ্ভুত।

তিনি আরও বলেন, আমি এর জন্য কাউকে দোষারোপ করব না। তবে বেঞ্চে থাকা সবাই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল কারণ বলটি ঠিক তাদের চোখের সামনেই নিচে পড়েছিল। তাই বলটি যে কোনো কিছুর সংস্পর্শে এসেছিল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলেই আমার মনে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের এটি মেনেই চলতে হবে। তাই আমরা হয়তো আমৃত্যু ওই তারের বিষয়টি নিয়েই কথা বলে যাব।

চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বলের ভেতরে সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩২ দলের পর্বে পর্তুগালের কাছে ক্রোয়েশিয়ার ২-১ ব্যবধানে হারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার একটি গোল বাতিল করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির নেওয়া করেছিল। আক্রমণভাগের এক খেলোয়াড়ের চুলের স্পর্শ শনাক্ত করার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল।

ম্যাচের পর ক্যামেরার ক্যাবলে বলের আঘাতের বিষয়ে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল বলেন, মানে, বলের ভেতরে একটি চিপ আছে যা বলে দিতে পারে এতে চুলের স্পর্শ লেগেছে কি না। যেমনটা আমরা ক্রোয়েশিয়া-পর্তুগাল ম্যাচের সময় দেখেছি। তাই এমন কিছু ঘটলে তারা নিশ্চয়ই তা বলতে পারবে। বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। আমি তা দেখিনি।