বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পথটা মোটেও মসৃণ নয়। একের পর এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েও প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর সেই লড়াকু মানসিকতাকেই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরলেন আর্জেন্টিনা কোচ।
ক্যানসাস সিটিতে আজ কোয়ার্টার ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় আটকে ছিল ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা জানতাম আমাদের কষ্ট করতে হবে। এটা আমাদের রক্তে আছে, এটা আমাদের ডিএনএ। আর এটাই আমাদের মানসিকভাবে শান্ত রাখে।’
এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি নকআউট ম্যাচেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। তার আগে কেপ ভার্দের বিপক্ষেও লিড হারিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছিল স্কালোনির দল।
আর্জেন্টিনা কোচের মতে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতাই এমন কঠিন মুহূর্তে দলকে শান্ত থাকতে শিখিয়েছে।
স্কালোনি বলেন ‘কাতারে আমরা এতটা অভিজ্ঞ ছিলাম না, আমিও ছিলাম না। তখন এমন পরিস্থিতি সামলানো কঠিন ছিল। কিন্তু এখন আমরা জানি প্রতিপক্ষের চাপে পড়া কেমন, সমতা ফেরানো গোল হজম করা কেমন। তাই আজও আমরা শান্ত ছিলাম। এই দল কখনো হাল ছাড়ে না।’
দলের ঐক্যকেও সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন স্কালোনি। আর্জেন্টাইন কোচের মতে, ‘সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের। তারা পুরো প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। আমরা ব্যক্তিনির্ভর নই, আমরা একটি দল। আমরা একসঙ্গে লড়ি, একসঙ্গে জিতি। ফুটবল যে কত কঠিন খেলা, এই ম্যাচই তার প্রমাণ।’
এদিন কর্নার থেকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেডে আর্জেন্টিনার প্রথম গোল নিয়েও সন্তুষ্ট স্কালোনি। সেট-পিসে দলের উন্নতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ম্যাক অ্যালিস্টার অসাধারণ। সে এই বিষয়টি নিয়ে অনেক পরিশ্রম করেছে।’
এবার আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার লড়াই। মেসির দল বুধবার দিবাগত রাত ১টায় মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের।





