বিশ্বকাপ শেষে ক্লাব ফুটবলে ফিরেই নিজের ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন লিওনেল মেসি। প্রথম ম্যাচে হতাশ করলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই জোড়া গোল করে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। লিগস কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে একই সঙ্গে ইন্টার মায়ামিকে ৪-২ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক!
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে নু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতেই ধাক্কা খায় ইন্টার মায়ামি। চতুর্থ মিনিটে ডেভিড রদ্রিগেজের গোলে এগিয়ে যায় লিগা এমএক্সের ক্লাব অ্যাতলেটিকো দে সান লুইস। তবে পিছিয়ে পড়ার পর দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। ১১তম মিনিটে নোয়া অ্যালেনের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে সমতায় ফেরান মেসি। বিশ্বকাপ শেষে ক্লাবে ফেরার পর এটি ছিল তার প্রথম গোল।
সমতা ফেরানোর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় ইন্টার মায়ামি। ২৬তম মিনিটে তেলাসকো সেগোভিয়ার গোলে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় দলটি। প্রথমার্ধের ৪৪তম মিনিটে আবারও অ্যালেনের পাস কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। এই গোলেই লিগস কাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৪, যা তাকে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার মর্যাদা এনে দিল। এর আগে এই রেকর্ড ছিল লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির দেনি বুয়াঙ্গার দখলে।
লিগস কাপে এনিয়ে ১২ ম্যাচ খেলে মেসি পাঁচবার করলেন এক ম্যাচে জোড়া গোল! সত্যিই বিস্ময়কর!
গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্যও সুযোগ তৈরি করেছেন মেসি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তার নেওয়া কর্নার থেকে হেডে বল জালে পাঠান মিকায়েল দোস সান্তোস। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রাফা লেরেন্তে একটি গোল শোধ দিলেও ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি সান লুইস। পরে বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয়ার্ধের ২৫ মিনিটের পর খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় খেলা শুরু হলেও স্কোরলাইনে আর কোনো পরিবর্তন আসেনি। ৪-২ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্লোরিডার ক্লাবটি।
বিশ্বকাপ শেষে ইন্টার মায়ামির হয়ে মেসির প্রথম ম্যাচ ছিল এমএলএসে কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে। বদলি হিসেবে নেমে সেদিন প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেননি তিনি, ম্যাচটিও শেষ হয়েছিল ২-২ সমতায়। তবে সান লুইসের বিপক্ষে সেই হতাশা এক ম্যাচেই কাটিয়ে নিজের স্বভাবসুলভ নৈপুণ্যে আবারও প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে আলো ছড়াতে তিনি এখনও সমান কার্যকর!





