গুনাহ শব্দটি বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত হলেও এটি মূলত একটি ফার্সি শব্দ। সাধারণভাবে যার অর্থ দাঁড়ায় পাপ বা অন্যায়। পরিভাষায় আল্লাহর নির্দেশের পরিপন্থী সব কাজই গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।
গুনাহ বা পাপ মূলত ২ ধরনের হয়ে থাকে ‘সগিরা’ বা ছোট গুনাহ এবং ‘কবিরা’ বা বড় গুনাহ।
সগিরা গুনাহ বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে মাফ হলেও তওবা ছাড়া কবিরা গুনাহ মাফ হয় না। এমনকি কোনো কোনো কবিরা গুনাহের ক্ষেত্রে তওবা না করে মারা গেছে নিশ্চিত জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথাও হাদিসে এসেছে।
আর গুনাহ মাফের অন্যতম উপায় হলো কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকা। এ জন্য বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের পাশাপাশি উত্তম আমলের পথও বাতলে দিয়েছেন নবী কারিম (সা.)। এর মধ্যে দু’টি হাদিসে ছোট্ট দুটি আমলের কথা এসেছে, যার ফলে বান্দার সগিরা বা ছোট গুনাহগুলো ঝরে যায়। এর মধ্যে একটি আমল হলো উত্তমরূপে ওজু করা।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যখন কোনো মুসলিম অথবা মুমিন বান্দা অজু করে আর সে তার মুখ ধৌত করে, তখন অজুর পানি অথবা অজুর পানির শেষ ফোটার সঙ্গে সঙ্গে তার চেহারা থেকে সব গুনাহ বের হয়ে যায়। যা সে তার দু’চোখ দিয়ে দেখেছিল। আর যখন সে তার দু’হাত ধৌত করে তখন অজুর পানি বা অজুর পানির শেষ ফোটার সঙ্গে সঙ্গে তার উভয় হাত থেকে সকল গুনাহ বের হয়ে যায়, যা সে হাত দিয়ে ধরেছিল, এমনকি শেষ পর্যন্ত সে তার গুনাহ থেকে পাক হয়ে যায়। -জামে তিরমিজি: ২
এ ছাড়া আরেকটি আমল হলো চিরচেনা কিছু কালেমা পাঠ করা। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, একবার হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি শুকনো পাতাওয়ালা গাছের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় তিনি হঠাৎ একটি লাঠি দিয়ে গাছটিতে আঘাত করলে পাতাগুলো ঝরে পড়ে। এরপর নবী কারিম (সা.) বললেন, কোনো বান্দা ‘আলহামদুলিল্লাহ’, ‘সুবহানাল্লাহ’ এবং ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ (অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহতায়ালার, আল্লাহতায়ালা অতি পবিত্র এবং আল্লাহতায়ালা ব্যতীত আর কোনো মাবুদ নেই, তিনি অতি মহান) বললে তা তার গুনাহগুলো এমনভাবে ঝরিয়ে দেয় যেভাবে এ গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়েছে। -জামে তিরমিজি: ৩৫৩৩





