ভোটার বেড়েছে ৩ লাখ, মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করা নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির ফলে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জনে। সর্বশেষ চূড়ান্ত ভোটার তালিকার তুলনায় নতুন ভোটার বেড়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন।

রোববার (৯ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি সচিব বলেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন খসড়া তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জন। তবে দাবি, আপত্তি ও সংশোধনসংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত তালিকায় এই সংখ্যা কিছুটা বাড়তে বা কমতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ চূড়ান্ত হালনাগাদ অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।

নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ার পর মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জনে। এই ভোটাররাই আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি, বাদ পড়া কিংবা তথ্যের ভুল সংশোধনের সুযোগ রেখেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া তালিকা প্রকাশের পর আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে।

ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত আবেদন ফরম-৬, ফরম-৭ ও ফরম-৮-এর মাধ্যমে করা যাবে। ফরম-৬-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি, ফরম-৭-এর মাধ্যমে আপত্তি এবং ফরম-৮-এর মাধ্যমে তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যাবে।

এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ৬৪ জেলা ও বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মোট ১৫৪ জন কর্মকর্তাকে সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি, আপত্তি ও তথ্য সংশোধনসংক্রান্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত দেবেন।

ইসির সময়সূচি অনুযায়ী, সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষকে ২৭ আগস্টের মধ্যে আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করতে হবে। এরপর ২৮ আগস্টের মধ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য ভোটার তালিকায় সংযোজন করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ৩১ আগস্ট হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তন হলে ভোটার নিবন্ধনের সময়ও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ভোটের সময় পেছানো হলে নতুন করে ভোটার নিবন্ধনের সুযোগ বাড়ানো হবে। এ ক্ষেত্রে নতুন ভোটারদের সম্পূরক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এদিকে আগামী অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদের এই কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ইসি। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচনী প্রস্তুতির পরবর্তী ধাপগুলো এগিয়ে নেওয়া হবে।

৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা কত দাঁড়ায় এবং নতুন ভোটারদের মধ্যে কতজন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন, তা তখনই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।