তারেক রহমানকে ‘কথিত প্রধানমন্ত্রী’ বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন আজ। সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী যাবেন তিনি। এরপর চট্টগ্রাম।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফর নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘কথিত প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন।

রোববার (৯ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এমন পোস্ট নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগের মধ্যেই কথিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন। তার প্রতি জনগণের পক্ষ থেকে কয়েকটি কথা ও কিছু জরুরি নির্দেশনা—

চট্টগ্রাম সফরে:
১. চট্টগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। মেয়র শাহাদাত হোসেনকে বলে আসবেন—দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে চট্টগ্রামের উন্নয়ন, যানজট নিরসন ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

২. চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় করে জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. মীর হেলাল ও খসরু গ্রুপের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কোন্দল বন্ধ করার উদ্যোগ নিন। তাদের রাজনৈতিক বিরোধের প্রভাব যেন চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে।

৪. বিএনপির নেতাকর্মীদের পাহাড় কাটা বন্ধ করতে কঠোর নির্দেশ দিন। অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিন।

কক্সবাজার সফরে:
৫. সালাহউদ্দিন গ্রুপ ও শহর বিএনপির নেতাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল বন্ধ করে জনগণের স্বার্থে কাজ করার নির্দেশ দিন।

৬. কক্সবাজারে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। সমুদ্রসৈকতসহ পর্যটন এলাকাগুলোতে অবৈধ ব্যবসা, দখল ও হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন।

৭. টেকনাফে মাদক ও ইয়াবা ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিন। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন—কেউ যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ছাড় না পায়।

৮. মহেশখালীতে বিদেশি শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অবৈধ বা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা বা কার্যক্রম থাকলে তা আইনগত ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

৯. হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেগুলো লিখিতভাবে জাতির সামনে প্রকাশ করুন। জনগণ যেন জানতে পারে—কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেগুলো কতটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

পাটওয়ারী আরও লিখেছেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মানুষের প্রত্যাশা একটাই, ক্ষমতার রাজনীতি নয়, জনগণের নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করুন। জনগণ এখন শুধু বক্তব্য শুনতে চায় না; তারা কাজের প্রমাণ দেখতে চায়।