মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে অনেকেই সাদা চিনির বদলে খেজুর বা গুড় বেছে নেন। দুটিই প্রাকৃতিক মিষ্টি খাবার হলেও ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কোনটি তুলনামূলক ভালো, তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।
খেজুরের পুষ্টিগুণ:
খেজুর একটি সম্পূর্ণ ফল। এতে প্রাকৃতিক শর্করার পাশাপাশি ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।
খেজুরের সুবিধা হলো—
এতে ফাইবার থাকে, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা তুলনামূলক স্বাস্থ্যকরভাবে মেটাতে পারে।
ব্যায়ামের আগে দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ।
এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে।
গুড় কতটা ভালো?
গুড় সাদা চিনির তুলনায় কম পরিশোধিত হলেও এটিকে স্বাস্থ্যকর খাবার ভেবে বেশি খাওয়া ঠিক নয়। গুড়ে কিছু খনিজ উপাদান থাকলেও এটি মূলত চিনি বা শর্করারই একটি উৎস।
গুড় খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা—
এতে ফাইবার খুব কম বা থাকে না।
বেশি পরিমাণে খেলে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ হতে পারে।
চা, পায়েস বা মিষ্টিজাতীয় খাবারে ব্যবহার করতে গিয়ে পরিমাণ অজান্তেই বেড়ে যেতে পারে।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গুড় কোনোভাবেই ভালো পছন্দ নয়।
ওজন কমাতে কোনটি এগিয়ে?
ওজন কমানোর লক্ষ্য থাকলে ‘খেজুর তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প’। কারণ এটি ফাইবারসহ একটি আস্ত ফল এবং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়া যায়।
তবে খেজুরও কম ক্যালরির খাবার নয়। তাই একসঙ্গে অনেকগুলো খাওয়া যাবে না।
কতটা খাওয়া যেতে পারে?
মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে সাধারণভাবে ‘এক থেকে দুটি খেজুর’ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। গুড় খেলে পরিমাণ খুব সামান্য রাখা ভালো। তবে ব্যক্তিভেদে দৈনিক ক্যালরির চাহিদা, শারীরিক পরিশ্রম ও খাদ্যাভ্যাস আলাদা। তাই নির্দিষ্ট ডায়েটের ক্ষেত্রে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
প্রাকৃতিক হলেই কোনো খাবার ইচ্ছেমতো খাওয়া যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। খেজুর ও গুড় দুটিতেই প্রাকৃতিক শর্করা ও ক্যালরি রয়েছে।
তাই ওজন কমাতে চাইলে মূল বিষয় হলো ‘পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শরীরচর্চা’। সাদা চিনির বিকল্প হিসেবে বেছে নিতে হলে পরিমিত পরিমাণে খেজুর গুড়ের তুলনায় বেশি উপযোগী হতে পারে।





