বদলে যাবে ধানমন্ডি লেক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় রাজধানীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ধানমন্ডি লেক সংস্কারের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। লেকটির দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত অবনতি ও পরিবেশগত ক্ষতি বিবেচনায় তা পুনরুদ্ধারে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

পাইলট প্রকল্পের ভিত্তিতে আগে লেকের তলদেশে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করবে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান। এতে সফল হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে লেকের সংস্কার কাজ শুরু করবে ডিএসসিসি। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ধানমন্ডি লেকে নির্মাণ করা হবে জিমনেসিয়াম, লাইব্রেরি, ট্রি হসপিটাল এবং নজরুল চর্চার জন্য ‘নজরুল সরোবর’।

ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানায়, ধানমন্ডি লেক সংস্কারে ৭৫ কোটি টাকার একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কোটি টাকা লেকের সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ২৫ কোটি টাকা ‘নজরুল সরোবর’ বা ‘বিদ্রোহী চত্বর’ নির্মাণের জন্য ব্যয় হবে।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, লেক সংস্কার পরিকল্পনার আওতায় ধানমন্ডি লেকের তলদেশ পরিষ্কার, পাড় সংরক্ষণ ও ঢাল স্থিতিশীলকরণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া হাঁটার পথ সংস্কার, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপত্তা রেলিং ও সীমানা উন্নয়ন, লেকের গাছের পরিচর্যা এবং পরিবেশবান্ধব নাগরিক পরিসর উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রমও গ্রহণ করা হবে।

ধানমন্ডি লেকে বেশ কিছু জায়গায় হাঁটার পথ নষ্ট হয়ে গেছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এগুলো সংস্কার করা হবে। টয়লেটও সংস্কার হবে। ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে একটি লাইব্রেরি ও জিমনেসিয়াম তৈরি হবে। সেখানে নিচের জায়গা প্লাজার মতো ফাঁকা থাকবে। কিছু ড্রেনেজ সিস্টেমও সংস্কার করা হবে।

ধানমন্ডি-৫ নম্বরের পাশ দিয়ে মেডিনোভার আগে একটা বাটারফ্লাই গার্ডেন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেখানে একটি ‘ট্রি হসপিটাল’ তৈরির চিন্তাভাবনা চলছে। যেখানে ধানমন্ডি লেক থেকে শুরু করে আশপাশের নার্সারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

ডিএসসিসির অঞ্চল-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) এবং এ প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, এ পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ উপস্থাপন করেছে। এর বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী, ডিএসসিসিকে শর্ত দিয়েছেন। আর সেটি হলো এই লেকের বেডে দীর্ঘদিনের যে সø্যাব জমে আছে তা আগে পরিষ্কার করতে হবে। এটি অপসারণের পরই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি।

একটি চীনা প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গুলশান লেকের বেড পরিষ্কার করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি উপস্থাপনা দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে ধানমন্ডি লেক কিছুটা ভালো। এজন্য গুলশানের আগে ধানমন্ডি লেকের ময়লা পরিষ্কারের জন্য সেই চীনা প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।

এ উদ্যোগ সফল হলে তখন লেক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ চীনা প্রতিষ্ঠানকে পাইলট প্রকল্পের জন্য অনুমতি দিয়েছে। এতে ডিএসসিসির কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। লেকের তলদেশ পরিষ্কারের কার্যক্রম মাসখানেকের মধ্যেই শুরু হবে।

এ ছাড়া ধানমন্ডি আবাহনী মাঠের পূর্বদিকে ঢাকা ওয়াসার কিছু কোয়ার্টার আছে। এখানে যে খালি জায়গা আছে সেখানে নজরুল সরোবর তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর নকশা করছেন স্থপতি রফিক আজম। সেখানে লাইব্রেরি, টয়লেট থাকবে। আর নজরুল চর্চা হবে।