মহাকাশে মার্কিন দৌরাত্ম্য: চীন-রাশিয়ার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

মহাকাশ সামরিকীকরণের দৌড়ে ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটেছে। প্রথমবারের মতো মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে পৃথিবীর কক্ষপথে তাদের সক্রিয় মারণাস্ত্র মোতায়েন করা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই তথ্য প্রকাশের পর চীন ও রাশিয়ার সাথে সামরিক উত্তেজনার পারদ নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ওয়াশিংটন এবং প্যারিসে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর চিফ ডগলাস শাইস ও বিমান বাহিনীর প্রধান ট্রয় মিঙ্ক নিশ্চিত করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে কক্ষপথে কার্যকর এমন সব মহাকাশ নিয়ন্ত্রণকারী অস্ত্র রয়েছে, যা তাদের যৌথ বাহিনীকে মহাকাশভিত্তিক যেকোনো সম্ভাব্য শত্রুভাবাপন্ন আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সরকার মহাকাশে নিজস্ব প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র থাকার বিষয়টি গোপন রাখলেও, সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও রাশিয়া কর্তৃক বৈশ্বিক কক্ষপথে ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী কার্যক্রমের কারণে মার্কিন নীতিতে এই আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

পেন্টাগনের এমন খোলামেলা স্বীকারোক্তির পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে চীন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, তার দেশ মহাকাশকে কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে রূপান্তর বা সেখানে অস্ত্র প্রতিযোগিতা তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টার কঠোর বিরোধী। একই সাথে রাশিয়া মন্তব্য করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপ মহাকাশে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে।

কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, তাদের মূল লক্ষ্য অস্ত্র প্রদর্শন করা নয় বরং সম্ভাব্য শত্রু পক্ষকে নিরস্ত বা প্রতিহত করা। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া; এই তিন পরাশক্তিই বছরের পর বছর ধরে এমন সব জটিল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক এবং চালনাযোগ্য মহাকাশযান তৈরি করেছে যা একে অপরকে আক্রমণ কিংবা তাদের কার্যক্ষমতাকে অচল করে দিতে সক্ষম। পৃথিবীর বুকে চলা সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে কৃত্রিম উপগ্রহের ওপর নির্ভশীলতা স্পষ্ট হওয়ায় মহাকাশকে নতুন এক রণক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে স্যাটেলাইট জ্যামিং, লেজার দিয়ে সেন্সর অন্ধ করে দেওয়া বা সরাসরি মহাকাশযানকে আঁকড়ে ধরে সরিয়ে দেওয়ার মতো প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। নির্দিষ্ট কোনো অস্ত্রের বিবরণ গোপন রাখা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকাশ্য ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহাকাশ রাজনীতি ও নিরাপত্তার সমীকরণকে চিরতরে বদলে দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স