ইরান যুদ্ধের জেরে ন্যাটোয় ফাটল, ইউরোপ থেকে সেনা কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্ররা মার্কিন বাহিনীকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলা চালানোর অনুমতি না দেওয়ায় ওয়াশিংটন এমন সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম কমানোর সম্ভাব্য পরিকল্পনা কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে উপস্থাপন করতে পারেন পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা।

এমন সময়ে এই আলোচনা সামনে এসেছে, যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নিজেদের ভূখণ্ডে সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। চলতি মাসের শুরুতে একটি বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার জন্য জার্মানি রাশিয়াকে দায়ী করেছে।

দশকের পর দশক ধরে সম্ভাব্য রুশ হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অরগানাইজেশন (ন্যাটো)-এর ওপর নির্ভর করে এসেছে ইউরোপ। তবে গত এক বছরে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে তিক্ত হয়েছে।

কেন ইউরোপে সেনা উপস্থিতি পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র?
এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটোর সামরিক কাঠামো নিয়ে জুনে শুরু করা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ইউরোপে মার্কিন সেনা ও সামরিক সম্পদের উপস্থিতি কমানোর একাধিক বিকল্প বিবেচনা করছে পেন্টাগন।

জুনে ব্রাসেলসে ন্যাটোর এক বৈঠকে এ পর্যালোচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হেগসেথ। সে সময় ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যদের সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন, নতুন পরিবর্তনের লক্ষ্য হবে ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষার ‘প্রধান দায়িত্ব’ নেওয়ার দিকে দ্রুত ও ‘অপরিবর্তনীয়ভাবে’ এগিয়ে নেওয়া।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা চালাতে ইউরোপীয় ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও কঠোর সমালোচনা করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

হেগসেথের ভাষায়, ইউরোপীয় মিত্ররা মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি, আকাশসীমা ব্যবহার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামরিক সুবিধা না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। তার দাবি, এসব সুবিধা পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আগে থেকেই ‘নিশ্চিত’ থাকার কথা ছিল।

এক-তৃতীয়াংশ সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা
ইউরোপে বর্তমানে আনুমানিক ৬৮ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহারের একটি বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে বলে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মূলত জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে এর চেয়েও বড় ধরনের প্রত্যাহারের একটি সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনাকে ইউরোপ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও অস্ত্রও প্রত্যাহার করা হতে পারে।

আরেকটি বিকল্প হলো পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের কিছু ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে, বিশেষ করে রাশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় মোতায়েন করা।

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেগসেথ আগামী ৬ নভেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

সেনা প্রত্যাহার অবশ্য এরই মধ্যে শুরু হয়েছে
ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নতুন নয়। রোমানিয়ায় মোতায়েন প্রায় ২ হাজার মার্কিন সেনার অর্ধেক গত বছর সেখান থেকে চলে গেছে।

জার্মানি থেকেও প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছে। ইউরোপে মোতায়েন মোট মার্কিন সেনার অর্ধেকেরও বেশি জার্মানিতে রয়েছে।

গত মে মাসে জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বড় পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, সে সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখেন।

ইউরোপের নিরাপত্তায় কী প্রভাব পড়তে পারে?
ইউরোপ থেকে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হলে এর বড় ধরনের কৌশলগত প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

জার্মান মার্শাল ফান্ডের বিশ্লেষক ইয়ান লেসারের মতে, বড় ধরনের সেনা প্রত্যাহার ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।

তবে তিনি মনে করেন, এর প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে কোথা থেকে এবং কখন সেনা সরানো হচ্ছে তার ওপর। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে যদি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পাঠানো হয়, তাহলে ইউরোপের নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

কারণ জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে।

লেসারের মতে, রাশিয়া ন্যাটোর কোনও সদস্যদেশে হামলা চালাবে—এমনটা সম্ভাব্য নয়। তবে ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমে গেলে মস্কো কৌশলগতভাবে কিছু সুবিধা পেতে পারে।

অন্যদিকে ইউরোপ থেকে সেনা সরিয়ে নিলে যুক্তরাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ এর ফলে ইউরোপজুড়ে দ্রুত সামরিক শক্তি প্রয়োগ বা ‘পাওয়ার প্রজেকশন’-এর সক্ষমতা কমে যাবে।

ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর সিনেটর রজার উইকার ও প্রতিনিধি মাইক রজার্স যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এ পদক্ষেপ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ‘ভুল সংকেত’ পাঠাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক কেন তিক্ত হচ্ছে?
ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ নতুন নয়। তার প্রথম মেয়াদ থেকেই তিনি অভিযোগ করে আসছেন, জোটের ইউরোপীয় সদস্যরা নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় না করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করছে।

গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প ন্যাটোর সদস্যদের প্রতিরক্ষা খাতে তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ ব্যয়ের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার যুক্তি ছিল, ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।

তবে ন্যাটোর অনেক সদস্য এখনও জোটের বর্তমান ২ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য পূরণেই সমস্যায় রয়েছে। যদিও ন্যাটো সদস্যরা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থানও ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়িয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর সুযোগ দেয়নি। স্পেন ও ইতালির মতো কয়েকটি দেশ প্রকাশ্যেই ওয়াশিংটনের যুদ্ধনীতির বিরোধিতা করেছে।

বাণিজ্য নিয়েও বিরোধ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধও সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ পণ্য রফতানি করে। এর ওপর গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুও দুই পক্ষের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়িয়েছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেখানে তেলসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাব্য মজুত রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। এ নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো বাধা দিলে তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করবেন না বলে জানান।

শুক্রবার ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের সঙ্গে তিনি একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে। এর ফলে দ্বীপটির প্রাকৃতিক সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার তৈরি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

শুধু ইউরোপ নয়, এশিয়াতেও মিত্রদের উদ্বেগ
ওয়াশিংটনের সঙ্গে মিত্রদের টানাপোড়েন শুধু ইউরোপে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদার তাইওয়ানও ওয়াশিংটনের ওপর আগের মতো নির্ভর করতে পারবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

১৯৫০ সাল থেকে চীনের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে আসছে তাইওয়ান। কিন্তু ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যে সেই নিরাপত্তা সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে তাইওয়ানের যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থ দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেছিলেন, তাইওয়ানের উচিত পরিস্থিতি ‘শান্ত’ করা, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে যুদ্ধে জড়াতে চায় না।

এরই মধ্যে ইরানের যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সামরিক সম্পদ সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। এতে তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ প্রশান্ত মহাসাগরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শেষ বিমানবাহী রণতরীকেও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিন সমুদ্রে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দায়িত্বে কিছুটা বিরতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই রণতরী সেখানে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপসাগরীয় মিত্রদের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত নিরাপত্তা অংশীদার সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা চুক্তি থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে রিয়াদের পক্ষে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনা ইরানের হামলায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাব্য পরিকল্পনা শুধু ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোতেই নয়, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি, মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। সূত্র: আল-জাজিরা