জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় এআই ইস্যুতে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র

আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক একটি উচ্চ-পর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো যখন নতুন করে জরুরি হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এতে একাধিক দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সরকারি বিধিনিষেধ আরোপের ধারণার তীব্র বিরোধিতা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এই প্রযুক্তি নিয়ে যেসব উদ্বেগের কথা বলা হচ্ছে তা নিছক একটি ‘প্রতারণা’ বা ‘ভুয়া’।

এআই কোম্পানি ও নির্বাহীদের দৃষ্টিতে থাকা বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওপেনএআই-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদের ওই বৈঠকে ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যানের বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আয়োজনে নেতৃত্ব দেবেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এবং জন-কূটনীতি (পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি) বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ রজার্স।

এই আয়োজনের বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্ষেত্রে তাদের সাথে অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনার একটি সুযোগ হিসেবে তুলে ধরছে। এতে ব্যাপক পরিসরে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বা গ্রহণের পথ সুগমকারী নীতিগত, আইনি ও নিয়ন্ত্রণমূলক বিষয়ের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে আলোচনার আশা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের এআই ও ডিজিটাল সহযোগিতা বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্লেয়ার মেলামেদ বলেছেন, এই বৈশ্বিক সম্মেলনে এআই-কেন্দ্রিক অনেক পার্শ্ব-আয়োজন থাকলেও, মূল আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের আলোচ্যসূচিতে এটি কতটা গুরুত্ব পাবে, তা এখনও অস্পষ্ট। তিনি বলেন, জাতিসংঘ এখনও মূলত প্রেক্ষাপট তৈরি ও নিজেদের অবস্থান নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে অন্যান্য অনেক সংস্থার মতোই এআই-এর ক্ষেত্রে জাতিসংঘের প্রকৃত ভূমিকা কী হওয়া উচিত তা নিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে।

মেলামেদ উল্লেখ করেন, সংকট ব্যবস্থাপনায় জাতিসংঘের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ধরুন এআই-চালিত কোনো বিশাল সাইবার হামলা হলো এবং আপনি জাম্বিয়ার কোনো হাসপাতাল বা বতসোয়ানার কোনো ব্যাংকে কাজ করছেন। সেই সাইবার হামলা যখন আপনার দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং আপনি বুঝতে পারেন না কী করবেন তখন আপনি কার কাছে সাহায্য চাইবেন? এক্ষেত্রে প্রায়শই জাতিসংঘের কথা সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে বেশ আগ্রহ রয়েছে; পাশাপাশি এআই পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যবস্থা ও সুরক্ষাকবচগুলোর ক্ষেত্রে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

মেলামেদ বলেন, এআই বিষয়ক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ফলাফল বা সিদ্ধান্ত আসার আশা তিনি করছেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে বিদ্যমান ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্যদের কথা তো বাদই দিলাম। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য হলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য।

তিনি বলেন, তার ধারণা অধিকাংশ মানুষই আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বৈঠকের ফলাফলের অপেক্ষায় থাকবেন; কারণ সেই বৈঠকে এআই একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন।