ঢাকা শহরের অলিগলি আর ক্যাফেগুলোতে এখন এক দৃষ্টিসুখকর রূপান্তর স্পষ্ট। গত কয়েক বছরে তরুণদের প্রতিদিনের পোশাকের ধরন বা ‘ডাল-ভাত ফ্যাশন’ হিসেবে পরিচিত সাধারণ পোশাকের ধারায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। গতানুগতিক টি-শার্ট আর ক্যাজুয়াল শার্টকে পেছনে ফেলে ঢাকার ফ্যাশন জগতে জাঁকিয়ে বসেছে স্ট্রিটওয়্যার ও পপ-কালচার চালিত পোশাক। তরুণ প্রজন্মের এই নতুন পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ঢিলেঢালা বা ড্রপ-শোল্ডার টি-শার্ট, ওভারসাইজড হুডি এবং নিজস্ব ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনে তৈরি এথনিক ফিউশন।
এই পরিবর্তনের মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে বৈশ্বিক ও স্থানীয় পপ-কালচার। আন্তর্জাতিক সঙ্গীত, অ্যানিমে, ওভার-দ্য-টপ (OTT) কন্টেন্ট এবং হিপ-হপ ঘরানার প্রভাব এখন ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীর মতো বড় শহরের তরুণদের পোশাকে দৃশ্যমান। একই সঙ্গে দেশীয় বিভিন্ন নতুন স্বাধীন ফ্যাশন ব্র্যান্ড এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের মানসিকতার সঙ্গে মানানসই গ্রাফিক টি-শার্ট ও স্ট্রিটওয়্যার বাজারে আনছে। যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতি, বাংলা ফ্রন্ট, কিংবা লোকশিল্পের ভিজ্যুয়াল উপাদানগুলোকে পপ-আর্ট আকারে পরিবেশন করা হচ্ছে। ফলে পোশাক কেবল শরীর ঢাকার মাধ্যম না হয়ে, তরুণদের আত্মপ্রকাশ ও নিজস্ব মতাদর্শ প্রদর্শনের ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে।
তবে পোশাকের এই নতুন জোয়ার কেবল বৈশ্বিক ফ্যাশনকে অন্ধভাবে অনুকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এখানে ঘটেছে এক দারুণ এথনিক ফিউশন বা ঐতিহ্যমুখী সমন্বয়। তরুণরা এখন জিন্স বা ট্রাউজার্সের সঙ্গে পরছে ট্র্যাডিশনাল কটি, আধুনিক কাটের ফতুয়া কিংবা খাদি ও জামদানি মোটিফে তৈরি স্ট্রিটওয়্যার। লৈঙ্গিক নিরপেক্ষতা ও আরামকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি এসব পোশাক একই সাথে ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবং শহুরে জীবনযাত্রার সাথে মানিয়ে যায়। সব মিলিয়ে, সাধারণ পোশাকের গণ্ডি পেরিয়ে দেশি স্ট্রিটওয়্যার ও পপ-কালচারের এই উত্থান নির্দেশ করে যে, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম এখন নিজস্ব সংস্কৃতির শিকড়কে শক্তভাবে ধরে রেখেই বৈশ্বিক ফ্যাশন ধারায় নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করছে।





