গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের জন্মদিন আজ

মায়ের একধার দুধের দাম কাটিয়া গায়ের চাম, পাপোশ বানাইলেও ঋণের শোধ হবে না, এমন দরদী ভবে কেউ রবে না। এমন দরদভরা গানের মাধ্যমে সারা বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে যান স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দ সৈনিক ফকির আলমগীর। মানুষ এবং মানুষের জীবন ধারার গানের কারণে সবাই তাকে উপাধি দেন গণসঙ্গীত শিল্পী।

সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কথাই তার গানে ফোটে উঠে। জীবনের শুরু থেকেই মানুষের মুক্তির গান, জীবনের গান, প্রাণের গান গেয়ে গণমানুষের সাথে মিশে আপন মনে গান করতেন দেশবরেণ্য এই শিল্পী।

১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলায় ভাঙা থানার কালামৃধা গ্রামে ফকির আলমগীরের জন্ম। আজ তার জন্মদিন। তবে জীবনের বিশেষ দিনে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে না থাকলেও গানের মাধ্যমে থাকবেন আজীবন। ২০২১ সালের ২৩ জুলাই রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে ফকির আলমগীরের বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

১৯৭৬ সালে তিনি গড়ে তোলেন লোকপ্রিয় ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী। এর মাধ্যমে তিনি গণসঙ্গীতকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সঙ্গীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন ৭১ বছর বয়সী এ শিল্পী। সঙ্গীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠে বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

১৯৮২ সালে বিটিভির আনন্দমেলা অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকদের মাঝে সাড়া ফেলে। গানটি লিখেছেন আলতাফ আলী হাসু। কণ্ঠ দেয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর।

গানে গানে জীবনের বেশির ভাগ সময় পার করেছেন তিনি। ফকির আলমগীর সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠাতা, গণসঙ্গীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসঙ্গীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন।

‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসঙ্গীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’-সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।

প্রভাতনিউজ/এনজে