ফোনে প্রবাসী মেয়ে শামারুহ মির্জার কাছ থেকে শুভাশিস পেয়ে শুরু হলো বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। ২৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ৭৫ বছর পূর্ণ করে ৭৬ এ পা রাখলেন মির্জা ফখরুল। ১৯৪৮ সালের এদিনে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘জন্মদিন মানে আরো একটি বছর চলে যাওয়া। বৃদ্ধ থেকে বৃদ্ধের পথে যাচ্ছি। সকালে দুই মেয়ের টেলিফোনে ঘুম ভেঙেছে আমার। দুই মেয়ে আর আপনাদের ভাবী (সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগম)-এর শুভেচ্ছায় দিন শুরু করেছি। আমার বড় মেয়েই প্রথম ‘হ্যাপি বার্থ ডে’ বলল।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘আমার কাছে এখনকার জন্মদিন নিদারুন কষ্টের। কারণ আমাদের নেত্রী গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি, এখন গৃহে অন্তরীণ হয়ে আছেন। নিদারুন কষ্ট-যন্ত্রণায় দিনযাপন করছেন। এরকম একটা অবস্থায় জন্মদিন নিয়ে কি বলার আছে? পা রাখলাম ৭৬-এ।”
সকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার পর দলের নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাকে। জন্মদিনের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো আগেই বারণ করে দিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালযে সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে সাংবাদিকরা তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ধন্যবাদ আমাকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য যে, আমার সময় প্রায় শেষের দিকে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ফখরুল ছাত্র জীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন তিনি।
ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন ফখরুল। সরকারি চাকরি ছেড়ে আশির দশকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন।
২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে চার দলীয় জোট সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব হওয়ার আগে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন ফখরুল। এই পদটি সৃষ্টি করা হয়েছিল তারেক রহমানের জন্য। তিনি দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার পর ওই পদে মির্জা ফখরুলকে আনেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ২০১১ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল। ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব তিনি।





