ফুটবল বা ক্রিকেট বিশ্বকাপ কিংবা ইউরোপীয় ফুটবলের হাইভোল্টেজ ম্যাচ—প্রিয় দলের খেলা দেখতে ক্রীড়াপ্রেমীদের অনেকেই রাত জাগেন। তবে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার পরদিন একধরনের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি গ্রাস করে। মনোযোগের অভাব, মাথাব্যথা কিংবা কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই রাত জাগার পর দিনের বেলা শরীর ও মস্তিষ্ককে কীভাবে চাঙা রাখা যায়, সে বিষয়ে কিছু সহজ পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
১. সকালে দীর্ঘ সময় ঘুমাবেন না: রাত জেগেছেন বলে পরদিন দুপুর পর্যন্ত বিছানায় পড়ে থাকা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এতে শরীরের স্বাভাবিক ‘স্লিপ সাইকেল’ বা ঘুমের চক্র পুরোপুরি ভেঙে যায়। তাই সকালে প্রতিদিনের অভ্যাসের চেয়ে বড়জোর এক বা দুই ঘণ্টা বেশি ঘুমানো যেতে পারে, তবে দ্রুত বিছানা ছেড়ে দেওয়াই মঙ্গল।
২. দুপুরে ‘পাওয়ার ন্যাপ’ নিন: দুপুরের দিকে শরীর যখন বেশি ক্লান্ত লাগে, তখন ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা ‘পাওয়ার ন্যাপ’ নিতে পারেন। এটি আপনার মস্তিষ্ককে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করবে। তবে মনে রাখবেন, এই ঘুম যেন কোনোভাবেই এক ঘণ্টার বেশি না হয়, তাহলে কিন্তু রাতে আর সহজে ঘুম আসবে না।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: ঘুমের ঘাটতি হলে শরীরে একধরনের ডিহাইড্রেশন বা পানির শূন্যতা তৈরি হয়, যা ক্লান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই দিনভর প্রচুর পরিমাণে পানি, ডাবের পানি বা তরল খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। এটি শরীরকে সতেজ রাখবে।
৪. খাবার তালিকায় নজর দিন: শরীর ক্লান্ত থাকলে অনেকেই অতিরিক্ত মিষ্টি বা ক্যাফেইনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর চেয়ে বরং ডিম, চর্বিহীন মাংস, মাছ, তাজা ফলমূল ও শাকসবজি জাতীয় পুষ্টিকর খাবার খান। এগুলো শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সাহায্য করবে।
৫. অতিরিক্ত চা-কফি পরিহার করুন: ঘুম কাটাতে বারবার চা বা কফি পানের অভ্যাস সাময়িক স্বস্তি দিলেও দিনশেষে তা শরীরের ক্ষতি করে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন রাতে নতুন করে অনিদ্রার কারণ হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে চা-কফি পান করুন।
৬. হালকা শারীরিক কসরত: ক্লান্তি কাটাতে ঘরের ভেতরে বা খোলা বাতাসে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি অথবা হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন। এতে শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, যা অলসতা ও ঝিমুনি ভাব কাটাতে বেশ কার্যকর।
৭. পরের রাতে ঘুম পূর্ণ করুন: একদিনের ঘুমের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে পরের রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের ব্যবস্থা করুন। মনে রাখবেন, রাত জাগার ক্ষতি সামাল দিতে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসে দ্রুত ফিরে আসাটাই সবচেয়ে জরুরি।





