চূয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার গাজীপুর সাফারি পার্কের লেমুর

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি দুর্লভ প্রজাতির ‘রিং-টেইলড’ লেমুর সীমান্ত পেরিয়ে এখন ভারতের গুজরাতের একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে অবস্থান করছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে উঠে এসেছে, ভেতরে থাকা অসাধু কর্মীদের সহায়তায় একটি সুসংগঠিত পাচারকারী চক্র চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত ব্যবহার করে প্রাণী দুটিকে ভারতে পাচার করে দেয়। তবে উপযুক্ত জেনেটিক প্রমাণ বা ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের অভাবে পাচার হওয়া এই লেমুর দুটিকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে, যখন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে এক জোড়া রিং-টেইলড লেমুর উদ্ধার করা হয়। মূলত মাদাগাস্কারের এই বিপন্ন প্রজাতির লেমুর দুটিকে পরবর্তীতে গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা হলে সেখানে তারা নতুন বাচ্চার জন্ম দেয়। কিন্তু ২০২৫ সালের মার্চে পার্ক থেকে একযোগে তিনটি লেমুর চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাকার একটি বাসা থেকে একটি লেমুর উদ্ধার করলেও বাকি দুটির কোনো হদিস মেলেনি। গ্রেপ্তার হওয়া পাচারকারী চক্রের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের পর সিআইডি নিশ্চিত হয় যে লেমুর দুটি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে সিআইডি জানতে পারে, ভারতে একাধিক হাত ঘুরে প্রাণী দুটি অবশেষে গুজরাতের ‘ভান্তারা’ নামক একটি বেসরকারি বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পৌঁছেছে, যার পেছনে রয়েছে ভারতের প্রভাবশালী আম্বানি পরিবার। ভান্তারা কর্তৃপক্ষের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করা ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে এবং সাফারি পার্কের কর্মকর্তাদের দ্বারা শনাক্তের মাধ্যমে সিআইডি লেমুর দুটির উপস্থিতি নিশ্চিত করে। কিন্তু প্রাণীগুলো ফেরত পেতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তৈরি হয় নতুন আইনি ও বৈজ্ঞানিক জটিলতা।

কোনো প্রাণীর মালিকানা আন্তর্জাতিকভাবে দাবি করতে হলে তার আগের ডিএনএ রিপোর্ট বা শক্ত তথ্য-প্রমাণ থাকা আবশ্যক। অথচ গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে ছবি ও ভিডিও ছাড়া কোনো ধরনের বিজ্ঞানসম্মত ডিএনএ রেকর্ড ছিল না। যদিও উদ্ধার হওয়া শেষ লেমুরটির মৃত্যুর আগে তার নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সেটি দিয়ে ভারতের লেমুরগুলোর সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক প্রমাণ করার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি। ফলে প্রশাসনিক অবহেলা ও সক্ষমতার অভাবের সুযোগে পাচার হয়ে যাওয়া প্রাণী দুটিকে ফেরত আনার প্রচেষ্টা আপাতত থমকে আছে।