বিশ্বকাপের থিম সং নিয়ে কেন ক্ষুব্ধ ফুটবল ভক্তরা?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘গোলস’ প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) গানটি মুক্তি পাওয়ার পর ফুটবল ভক্তরা এর লিরিক বা গানের কথা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তাদের মতে, গানটি একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের চিরচেনা উত্তেজনা ও আবেগ ফুটিয়ে তুলতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ব্ল্যাকপিঙ্ক ব্যান্ডের জনপ্রিয় কে-পপ তারকা লিসা, ব্রাজিলিয়ান গায়িকা আনিতা ও নাইজেরিয়ান শিল্পী রেমা যৌথভাবে এই গানটি গেয়েছেন। ‘ট্রপকিল্যাজ’-এর প্রযোজনায় গানটিতে কে-পপ, ল্যাটিন পপ ও আফ্রোবিটসের মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। ভিডিওতে শিল্পীদের দারুণ নাচ ও নিজস্ব স্টাইল থাকা সত্ত্বেও গানটি ভক্তদের মন জয় করতে পারেনি।

বিশ্বকাপের থিম সং-এ সাধারণত ফুটবল প্রেম, দেশের প্রতি টান আর স্টেডিয়াম কাঁপানো শক্তির আবহ থাকে। কিন্তু ‘গোলস’ গানটিতে ফুটবল বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত রূপ আর টাকার অহমিকা দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গানের কিছু লাইন যেমন- ‘আমার শরীর, আমার ফিট, আমার বন্ধুরা’ আমার গাড়ি কিংবা ‘ক্লাবটা কিনে নাও, আমি এটা করি গল্পের খাতিরে’- এমন কথার তীব্র সমালোচনা করছেন ভক্তরা। তাদের মতে, এটি কোনো ফুটবল বিশ্বকাপের গান নয়, বরং সাধারণ কোনো গ্ল্যাম-পপ বা ক্লাবের গান মনে হচ্ছে।

এক ক্ষুব্ধ ফুটবল অনুরাগী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপের সময় সারা বিশ্বের সব ধরনের মানুষ একসঙ্গে আনন্দ করে। অথচ তারা এখানে রোগা হওয়া, সুন্দরী হওয়া আর ধনী হওয়া নিয়ে গান বানালো!’

অনেকে এই নতুন গানটির সঙ্গে আগের বিশ্বকাপের সুপারহিট গানগুলোর তুলনা করছেন। ২০১০ সালের শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এবং ২০২২ সালের বিটিএস তারকা জাংকুকের ‘ড্রিমার্স’ গানের উদাহরণ টেনে ভক্তরা বলছেন, সেই গানগুলোর তুলনায় ‘গোলস’ চরম হতাশাজনক। এমনকি অনেকে একে ২০২২ সালের বিতর্কিত গান ‘টুকোহ টাকা’-র চেয়েও বাজে বলে আখ্যা দিয়েছেন। অনলাইনে এত সমালোচনা সত্ত্বেও গানটির জনপ্রিয়তা কিন্তু কম নয়।

ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে ইতিমধ্যেই গানটির ভিউ ২৫ লাখ পার হয়ে গিয়েছে।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ