মো. শাহজাহান
শত বছরের নদীমাতৃক ঐতিহ্যে লালিত বাংলাদেশের মানচিত্রে ১৯৭৬ সালের মে মাসটি এক অবিনাশী দ্রোহের স্মারক হয়ে আছে। সেই উত্তাল সময়ে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দূরদর্শী নেতৃত্বে হাজারো সাধারণ মানুষের পায়ে হাঁটা ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ কেবল একটি ভৌগোলিক প্রতিবাদ ছিল না, বরং তা ছিল এই ব-দ্বীপের কোটি মানুষের বেঁচে থাকার আদিমতম আকুতি। উজানের একতরফা ও আগ্রাসী পানি নীতির কারণে ভাটির সবুজ জনপদ যেন কোনোভাবেই কৃত্রিম মরুভূমিতে পরিণত না হয়-অস্তিত্ব রক্ষার সেই জোরালো চেতনা অর্ধশতাব্দী পরেও সমভাবে প্রাসঙ্গিক এবং অনিবার্য হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে যে ক্ষোভ ও দাবিগুলো উচ্চারিত হয়েছে, তা কোনো সাময়িক আবেগ বা রাজনৈতিক সস্তা স্লোগান নয়। এটি মূলত বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, পরিবেশগত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জলজ অধিকারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এক পরম সত্য।
ফারাক্কা বাঁধের দীর্ঘস্থায়ী ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হলে সরকারকে অবিলম্বে পূর্বের সমস্ত নিষ্ক্রিয়তা ও তোষণনীতি পরিহার করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন, প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার এবং ঐতিহাসিক ন্যায্যতার ভিত্তিতে গঙ্গা ও তিস্তাসহ সমস্ত আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির সঠিক হিস্যা আদায়ে এখন একটি বহুমাত্রিক, সাহসী ও কৌশলী কূটনৈতিক অভিযান পরিচালনার বিকল্প নেই। পঞ্চাশ বছরের এই দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক পথপরিক্রমায় আমরা যে অপূরণীয় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছি, তার বস্তুনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন এবং অভিন্ন নদীর ওপর বাংলাদেশের আইনগত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় জাতীয় এজেন্ডা।
ফারাক্কা সংকটের শুরু আজ থেকে অনেক আগে, বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের শেষভাগ থেকে। ভারত সরকার ১৯৬১ সালে ফারাক্কায় বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে এবং ১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসে এটি পূর্ণাঙ্গ ও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে। মূল উদ্দেশ্য হিসেবে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষা করা এবং হুগলি নদীতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করার কথা বলা হলেও, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাত্র চার বছর পর এই বাঁধ ভাটির দেশের জন্য এক ভয়ংকর মরণফাঁদে পরিণত হয়। ১৯৭৫ সালে বাঁধ পূর্ণ ক্ষমতায় চালু হওয়ার পরপরই শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ তীব্রভাবে হ্রাস পায়। পদ্মা নদীসহ তার অসংখ্য শাখা-প্রশাখা শুকিয়ে যেতে শুরু করে এবং এর ফলে সমগ্র উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অভূতপূর্ব পরিবেশগত ধাক্কা লাগে। তৎকালীন সময়ে মাত্র একচল্লিশ দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে পানি প্রত্যাহারের কথা থাকলেও ভারত এরপর থেকে প্রতিনিয়ত শুষ্ক মৌসুমে একতরফাভাবে পানি নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে, যার ফলে ভাটির অববাহিকায় পানির হাহাকার তৈরি হয়। এই সংকটের প্রভাব শুধু অর্থনৈতিক ছিল না, এটি পরিবেশগত, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিকভাবেও ব্যাপক বিপর্যয় ডেকে আনে যা আজ অবধি বাংলাদেশের মানুষকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৭৭ সালে একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদে কোনো স্থায়ী সমাধান সুদূরপরাহতই থেকে গেছে। দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মেয়াদ ছিল দীর্ঘ ত্রিশ বছর। চুক্তিতে ফারাক্কা পয়েন্টে গড় পানি প্রবাহের ভিত্তিতে বণ্টনের একটি গাণিতিক সূত্র নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু বিগত তিন দশকের বাস্তবচিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও চরম হতাশাজনক। ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু করে গত তিন দশকে বাংলাদেশ বেশিরভাগ সময়ই নির্ধারিত ন্যূনতম পানি পায়নি, যা এক প্রকারের চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবেই পরিবেশবাদীরা বিবেচনা করেন। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে যখন বাংলাদেশের কৃষিকাজে পানির চরম চাহিদা থাকে, তখন পানির প্রবাহ প্রায়শই চুক্তির সীমার নিচে নেমে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয়ের গ্লেসিয়ার গলনের অনিয়মিততা যেমন এর জন্য দায়ী, তেমনি উজানে ভারতের উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ ও নতুন নতুন ক্যানেল দিয়ে পানি প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তগুলো এই সংকটকে আরও অনেক বেশি জটিল ও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
বর্তমানে আমরা এক ঐতিহাসিক মহাসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি কারণ ২০২৬ সালে এসে এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং এই মুহূর্তে নতুন চুক্তির নবায়ন বা নতুন রূপরেখা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নীতিগত আলোচনা চলছে। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো বারবার উত্থাপিত হচ্ছে- যেমন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া, পরিবেশসম্মত অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, তথ্যের স্বচ্ছ আদান-প্রদান নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য হিস্যা বজায় রাখা- সেগুলো এখনও বাস্তবায়নের পথ থেকে অনেক দূরে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবা, আত্রাই, টাঙ্গনসহ অসংখ্য নদী শুষ্ক মৌসুমে প্রায় মৃত বা কঙ্কালসার বালিয়াড়িতে পরিণত হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ কৃষক আজ সেচের পানির অভাবে নিজেদের সোনালী ফসল হারাচ্ছেন এবং তাদের জীবনধারণের মৌলিক পথগুলো রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। নদীগুলোর পানির বেগ কমে যাওয়ায় সমুদ্রের নোনা জল দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে এবং এই মারাত্মক লবণাক্ততা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সুন্দরবনের গভীর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে, যা বিশ্ব ঐতিহ্যের জন্য এক মহা হুমকি। সুন্দরী গাছের আগামরা রোগ থেকে শুরু করে বনের সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্র আজ এই মিঠাপানির সংকটের কারণে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে উপনীত হয়েছে।
এই সংকটের সামগ্রিক প্রভাব শুধুমাত্র কৃষি ও মৎস্য খাতের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সমগ্র সামষ্টিক অর্থনীতি ও সমাজকাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ কৃষকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ায় জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা সরাসরি বিঘ্নিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ধরনের প্রচ্ছন্ন মন্দা দেখা দিচ্ছে এবং মানুষ বাধ্য হয়ে নিজ এলাকা ছেড়ে জলবায়ু উদ্বাস্তু হিসেবে শহরের দিকে পাড়ি জমাচ্ছে। পরিবেশগতভাবে জীববৈচিত্র্য যেভাবে হ্রাস পাচ্ছে, তা দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বা স্থিতিস্থাপকতাকে চরমভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে। সামাজিকভাবে নদীকেন্দ্রিক যে হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নৌপথের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা আজ চিরতরে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে এবং নদীর সঙ্গে বাংলার মানুষের যে আত্মিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিল, তাও ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই তীব্র প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়কে আর কোনোভাবেই উপেক্ষা বা হালকা করে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক আইনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং যৌক্তিক অবস্থান নিয়েছে। ১৯৬৬ সালের বিখ্যাত হেলসিঙ্কি রুলস ফর দ্য ইউজ অব দ্য ওয়াটারস অব ইন্টারন্যাশনাল রিভার্স এবং ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জলাশয়ের অ-নৌ-চলাচল ব্যবহার সংক্রান্ত কনভেনশন অনুসারে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে দুটি মৌলিক এবং অলঙ্ঘনীয় নীতি প্রযোজ্য হয়। প্রথম নীতিটি হলো ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার, যা নির্দেশ করে যে প্রতিটি অববাহিকাভুক্ত রাষ্ট্রেরই নদীর পানির ওপর সমান ও যৌথ অধিকার থাকবে। দ্বিতীয় নীতিটি হলো কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি না করার নীতি, যার অর্থ উজানের দেশ নিজের স্বার্থে এমন কোনো কার্যকলাপ বা অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারবে না যা ভাটির দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক বা পরিবেশগত ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসে। এই আইনি নীতিগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, ভারত কর্তৃক একতরফাভাবে পানি নিয়ন্ত্রণ ও প্রত্যাহার করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের ক্ষতি করা আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও প্রথাগত রীতির লঙ্ঘন। বাংলাদেশ এই অলঙ্ঘনীয় আইনি নীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করেই নতুন চুক্তির আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা, তথ্যের শতভাগ স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি যৌথ ব্যবস্থাপনার দাবি জোরালোভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারে।
বিশ্ব নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিবেশবাদী ফোরামেও এই সংকটের নেতিবাচক প্রতিধ্বনি বিভিন্ন সময়ে শোনা গেছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন পরিবেশ সম্মেলন, সার্ক ফোরাম এবং আন্তর্জাতিক জলসম্পদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বারবার পানি বণ্টনের এই চরম অসমতা ও ন্যায্যতার অভাবের কথা তুলে ধরেছে। বিশ্বের অনেক নামী আন্তর্জাতিক পরিবেশবিদ ও জলসম্পদ বিশেষজ্ঞ ফারাক্কা বাঁধকে উজান ও ভাটির দেশের মধ্যকার এক অসম ও বৈষম্যমূলক সম্পর্কের নিকৃষ্টতম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এ ধরনের একতরফা নিয়ন্ত্রণ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে একটি বিশাল অন্তরায়। ইউরোপের ড্যানিউব নদী কিংবা আফ্রিকার নীল নদসহ বিশ্বের অন্যান্য অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর ক্ষেত্রে যৌথ অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার যে সফল বৈরিতা-হীন মডেল রয়েছে, সেগুলো থেকে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই শিক্ষা নিতে পারে। এমনকি চরম রাজনৈতিক বৈরিতা থাকা সত্ত্বেও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি যদি টিকে থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যে কেন একটি পরিবেশবান্ধব ও ন্যায়সঙ্গত নদী ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠবে না, সেই প্রশ্ন আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও জরুরি হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি মানববন্ধনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো এই প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সময়োপযোগী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৬ মে ফারাক্কা লংমার্চ দিবসকে ‘জাতীয় পানি অধিকার দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করার প্রস্তাবটি অত্যন্ত চমৎকার, যা নতুন প্রজন্মের মাঝে নদী রক্ষার চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখবে। এছাড়া ফারাক্কা বাঁধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও অর্থনৈতিক কমিশন গঠন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণ ও দেশীয় বিশেষজ্ঞদের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নদী দখল, দূষণ ও বালু উত্তোলন রোধে একটি শক্তিশালী ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত জাতীয় নদী রক্ষা টাস্কফোর্স গঠনের দাবিগুলো অবিলম্বে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা দরকার।
দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও বিশেষজ্ঞরা যেভাবে আন্তরিক কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন, তা প্রমাণ করে যে ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে এই দেশের সকল নাগরিকের জন্য নদীর পানি একটি মৌলিক ও অলঙ্ঘনীয় অধিকার। নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে-এই স্লোগান আজ শুধু কোনো আবেগের কথা নয়, বরং এটি আমাদের বেঁচে থাকার এক কঠিন বাস্তব সত্য। সরকারকে নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল ও পরিবেশবিদদের সাথে নিয়ে একটি সুদৃঢ় জাতীয় অবস্থান তৈরি করতে হবে এবং ২০২৬ সালের চুক্তি নবায়নকে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে ফারাক্কার অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করার দীপ্ত শপথ নিতে হবে। সক্রিয় কূটনীতি, জাতীয় ঐক্য এবং প্রখর অধিকারবোধই একমাত্র সমাধানের পথ। নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনলে জীবন ফিরবে, ফসল ফিরবে, সুন্দরবন ফিরবে এবং সোনার বাংলা আবার তার প্রাণশক্তি ফিরে পাবে।
পঞ্চাশ বছর আগের সেই লংমার্চের চেতনাকে আজকের বাস্তবতায় নতুন করে জাগিয়ে তোলার সময় এসেছে। সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষ-সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, তবেই আমাদের নদীগুলো আবার তাদের হারানো অধিকার ও মুক্ত প্রবাহ ফিরে পাবে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মে ন্যায্যতার এই লড়াই সফলতার মুখ দেখবে।





