ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকার পক্ষের বৈঠকের পর উত্তাল পরিস্থিতি কিছুটা স্তিমিত হতে শুরু করেছে। গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বিক্ষোভ-আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চেয়েছে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য সময় চেয়েছে।
দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল রাজধানীর ভিঠলভাই প্যাটেল হাউসে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকার পক্ষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং এবং সিজেপির পক্ষে জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাসসহ আরেক তরুণ প্রতিনিধি এতে অংশ নেন। এটি ছিল উভয় পক্ষের মধ্যে তৃতীয় বৈঠক। বৈঠকের পর এক ঘোষণায় আন্দোলনকারী দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানায়, পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের জেরে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জন্য নরেন্দ্র মোদির সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধিরা জানান, সরকার নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারে নীতিগত সম্মতি প্রকাশ করেছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে সরে আসতে রাজি হয়নি।
সিজেপির প্রতিনিধি সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা নিহতদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি আপসহীন। পদত্যাগের বিষয়টি শনিবার (আজ) বেলা ২টার মধ্যে সরকারকে সিদ্ধান্ত আকারে জানাতে হবে। এই অবস্থায় যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত রাখতে আমরা সম্মত হয়েছি।’ দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সরকার এ দাবি না মানলে দেশজুড়ে আরও বড় পরিসরে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সরকার দ্রুত ধর্মেন্দ্র প্রধানকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে, অথবা তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন। তাহলে এ সংকটের একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’ অপরদিকে বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য শনিবার (আজ) সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আবারও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন ভাঙার কয়েক ঘণ্টা পরই সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতেকরে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা নিরসনের আশা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। আর গতকালকের বৈঠকটি ছিল সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রথম বিস্তারিত আলোচনার বৈঠক।
কংেগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী যা বললেন : ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরানো না হলে বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করবে না। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
ওয়াংচুকের অনশন ভাঙা সম্পর্কে সিজেপি নেতার ভাষ্য : ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপ সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘সোনম ওয়াংচুক অনশন ভেঙেছেন, এতে আমরা খুবই স্বস্তি পেয়েছি। কারণ তাঁর অনশন ২৬ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলছিল। দেশের জন্য তাঁর জীবন অত্যন্ত মূল্যবান।’





