হুতিদের হামলা বন্ধের আহ্বান, সৌদির পাশে থাকার ঘোষণা ব্রিটেনের

ইয়েমেনের হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটি বলেছে, সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হুতিদের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে যুক্তরাজ্যের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি কেট ফস্টার বলেন, ইয়েমেনে আবারও সংঘাত শুরু করা এবং সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলার জন্য হুতিদের তীব্র নিন্দা জানায় ব্রিটেন। একই সঙ্গে সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করার কথা জানান তিনি।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, হুতিদের অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে সৌদি আরবের বেসামরিক জনগণ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে লন্ডন।

সৌদিতে হামলায় হতাহত অন্তত ৭৩

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের হামলা বেড়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এসব হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। কয়েকটি বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনাতেও আগুন ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত হুতিরা দেশটির বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। রিয়াদ জানিয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

হুতিদের নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠা শুধু সৌদি আরবের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হয়ে কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর সেটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। ওই পাইপলাইন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। একই সময়ে বাব আল-মানদেব ও হরমুজ- দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথেই নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান এমন সময়ে এলো, যখন ইয়েমেনে হুতিদের অগ্রযাত্রা এবং সৌদি আরবের ওপর ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ব্রিটেন বলছে, এই পরিস্থিতিতে বেসামরিক জনগণ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা জরুরি।

তথ্য সূত্র- গভ.ইউকে।