আয় বাড়াতে সমুদ্রগামী জাহাজের বহর আরও বড় করতে চায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানের জাহাজ আছে সাতটি। এর বাইরে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় আরও সাতটি কেনার প্রক্রিয়া চলছে। সবকিছু ঠিকঠাকমতো এগোলে আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হতে পারে নতুন এসব জাহাজ। তখন বহরে মোট জাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৪টি। বিশ্বের এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে লাল-সবুজ পাতাকাবাহী এসব জাহাজ ছুটে চলবে। বিএসসি কর্মকর্তারা আশা করছেন, নতুন জাহাজগুলো কিনতে পারলে আয় বাড়বে এখন থেকে দ্বিগুণেরও বেশি। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, কেনার প্রক্রিয়ায় থাকা সাত জাহাজের মধ্যে আছে দুটি এমআর (মিডিয়াম রেঞ্জ) অয়েল ট্যাংকার, একটি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং দুটি মাদার ট্যাংকার ও দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার। এর মধ্যে ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার ডেডওয়েট টনেজের দুটি এমআর অয়েল ট্যাংকার কেনার জন্য প্রস্তাবনা শিগগিরই একনেকে পাঠানো হবে। প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা এরই মধ্যে অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে এ দুটি ট্যাংকার কেনা হবে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে জাহাজ তৈরির অর্ডার না দিয়ে বিশ্ববাজারে তৈরি করা যেসব জাহাজ পাওয়া যায়, সেগুলোই কেনার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে এ টাকা সরকারকে ফেরত দেবে বিএসসি। এ ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার (খোলা পণ্যবাহী জাহাজ) কেনারও প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে জি-টু-জি পদ্ধতিতে দুটি মাদার ট্যাংকার, দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ারসহ মোট চারটি জাহাজ কিনতে চায়না এক্সিম ব্যংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি হয়ে গেছে। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনকে (সিএমসি) আগেই জাহাজগুলো সরবরাহের জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, বিএসসি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি ৮০০ কোটি টাকা আয়ের বিপরীতে ৩০৬ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। আয়ের ৬০০ কোটি টাকাই এসেছে জাহাজভাড়া থেকে। আগামী তিন বছরে আরও সাতটি জাহাজ যোগ হলে অবশ্যই আয় এখনকার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়বে। ৩৫০-৪০০ বাংলাদেশি নাবিকের কর্মসংস্থান হবে। জানা গেছে, ১৯৭২ সালের জুনে এমভি বাংলার দূত নামের জাহাজের মাধ্যমে সমুদ্রপথে পণ্যপরিবহন ব্যবসা শুরু করে বিএসসি। এরপর বিভিন্ন সময়ে বহরে যুক্ত হয় ৪৬টি জাহাজ। তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী জাহাজের স্বাভাবিক বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক বিবেচিত হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে জাহাজ বিক্রি বা স্ক্র্যাপ করা হয়েছে। বর্তমানে আছে সাতটি জাহাজের একটি মিশ্র বহর।





