বারবার হৃদয় ভেঙেছে, তবু দল ছাড়িনি: নাদিয়া আহমেদ

প্রিয় ফুটবল দল আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন দীর্ঘদিনের একজন আর্জেন্টিনা সমর্থকের অনুভূতি, অপেক্ষা এবং ভালোবাসার গল্প।

স্বামী এফ এস নাঈমকে সঙ্গে নিয়ে কানসাস স্টেডিয়ামে বসেই ম্যাচটি উপভোগ করেন নাদিয়া। স্টেডিয়াম থেকে তোলা ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘ভামোস আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের পথে। গর্জে ওঠো আর্জেন্টিনা।’

একই পোস্টে স্টেডিয়ামটির বিশেষ স্মৃতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জানান, এই মাঠেই ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে হারিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের আগে দেওয়া আরেকটি দীর্ঘ পোস্টে নাদিয়া স্মরণ করেন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও হতাশার দিনগুলোর কথা।

তিনি লেখেন, ‘২০২২ সালের আগে আর্জেন্টিনার শেষ বিশ্বকাপ জয় ছিলো ১৯৮৬ সালে। তাই এই দলের সমর্থক হতে হলে মনোবল সত্যিই শক্ত হতে হয়।’

এরপর ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের তিক্ত স্মৃতিগুলো একে একে তুলে ধরে তিনি লেখেন, আমরা ২০০২-এর হতাশা দেখেছি, ২০০৬-এর আক্ষেপ দেখেছি, ২০১০-এর ব্যর্থতা দেখেছি, ২০১৪-এর ফাইনালে হৃদয়ভাঙা দেখেছি, ২০১৮-এর কষ্ট দেখেছি। তারপরও দল ছাড়িনি। অনেকেই ঠাট্টা করে আর্জেন্টিনাকে বলত, আরজেতেনা। ‘এসব দেখেছি, তবু কখনো দল ছাড়িনি।

বছরের পর বছর ধৈর্য, বিশ্বাস আর ভালোবাসা নিয়ে একই দলের পাশে থেকেছি। অবশেষে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’- বললেন অভিনেত্রী

নাদিয়ার কথায়, আর্জেন্টিনার প্রতি তার ভালোবাসা কখনোই শুধু শিরোপা নির্ভর ছিল না। তার কাছে এই দল ইতিহাস, ঐতিহ্য, জার্সি এবং আবেগের প্রতীক। তাই একটি দলের প্রতি সমর্থনকে কেবল ট্রফির সংখ্যায় মূল্যায়ন করা যায় না।

তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা আমাদের কাছে শুধু একটি ফুটবল দল নয়; এটি একটি অনুভূতির নাম। তাই আমাদের ভেঙে দেওয়া এত সহজ নয়।’

পোস্টের শেষাংশে বর্তমান সময়ের আর্জেন্টিনা দলকে নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্য সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে। ফলে সমালোচনা কিংবা বিদ্রূপ এখন আর তাদের বিশ্বাসকে নড়বড়ে করতে পারে না।