দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় নিজের জীবনের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী ফারিন খান। গভীর রাতে মহাসড়কের পাশে একটি পেট্রলপাম্পের ওয়াশরুমে গিয়ে আতঙ্কের মুখোমুখি হন তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, সময়মতো চিৎকার করে বেরিয়ে না এলে আরও ভয়াবহ কিছু ঘটে যেতে পারত।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনাটি তুলে ধরেন ফারিন। তিনি জানান, গত ১৩ মে নাটকের শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে জামালপুর যাচ্ছিলেন। রাত প্রায় ৩টার দিকে টাঙ্গাইল অঞ্চলের একটি পেট্রলপাম্পে গাড়ি থামে। সেখানকার ওয়াশরুম ব্যবহার করতে গেলে অস্বাভাবিক কিছু অনুভব করেন তিনি।
ফারিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশরুমের ভেতরে কয়েক মিনিট থাকার পর হঠাৎ মনে হয়, কেউ একজন খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। পেছনে তাকাতেই দেখতে পান, ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে দুটি হাত তার গলার দিকে এগিয়ে আছে। মুহূর্তেই আতঙ্কিত হয়ে জোরে চিৎকার করেন তিনি এবং দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন।
চিৎকার শুনে তার গাড়িচালক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা করা হলেও সে পালিয়ে যায়। ফারিন জানান, পরে ড্রাইভার তাকে বলেন, লোকটিকে ওয়াশরুমের পেছনের দিকে যেতে দেখেছিলেন তিনি। হাতে ডিমের খোসা থাকায় বিষয়টি তখন সন্দেহজনক মনে হয়নি।
এই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার কথায়, বাইরে থেকে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও ভেতরে ভেতরে তীব্র ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছিল। পরদিন শুটিং ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করেন তিনি।
ফারিন আরও বলেন, দেশের নারীরা প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন। বিশেষ করে রাতের ভ্রমণ কিংবা কর্মস্থলে যাতায়াতের সময় অনেক নারী নানা ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। তার মতে, সমাজে নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও অপরাধের বিচারহীনতার সংস্কৃতি এমন ঘটনাগুলোকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অভিনেত্রীর এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ দেশের নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।





