ইরানের ওপর সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় দরপতন হয়েছে। তেলের বাজারে এই পতনের জের ধরে বিশ্ববাজারে সোমবার মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
লেনদেনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের (প্রতি আউন্স স্বর্ণ) দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫৫.৭৬ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪ ডলারে পৌঁছায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত কিংবা নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে কিছু জানাননি তিনি। দুই দেশের আলোচনার আশায় বিশ্বজুড়ে যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সামান্য প্রশমিত হয়েছে, তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে যায়।
একই সময়ে জাপানি ইয়েনকে শক্তিশালী করতে মুদ্রাবাজারে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে মার্কিন ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। ডলারে দরপতনের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য ডলারে কেনাবেচা হওয়া স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে, যা মূলত স্বর্ণের বাজারে মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণ ইতিবাচক ধারায় শুরু করলেও মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক অনিশ্চয়তা ও তেলের বাজারের ওঠানামার কারণে এর সার্বিক ঊর্ধ্বগতি এখনো কিছুটা সীমিত রয়েছে।
মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সূচনার পর থেকেই স্বর্ণ চরম চাপের মুখে পড়েছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নীতিগত সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হয়। সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ রূপান্তরমূলক সম্পদ ধরা হলেও, অতিরিক্ত সুদের পরিবেশে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়—কারণ স্বর্ণ জমা রাখলে কোনো অতিরিক্ত সুদ পাওয়া যায় না।
গত সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বৃদ্ধির পক্ষে মত দেওয়া তিন কর্মকর্তা শুক্রবার স্পষ্ট জানান, দ্রুত সুদের হার বাড়ানো না হলে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ফেডের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরেই থেকে যেতে পারে।
তবে এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে চাকরির শূন্যপদের আপডেট, এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, সাপ্তাহিক বেকারত্বের আবেদনের চিত্র এবং বহুল আলোচিত ‘নন-ফার্ম পে-রোলস’ তথ্য। মূলত এই তথ্যগুলোর ওপরই নির্ভর করবে স্বর্ণের বাজার আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে মোড় নেবে।
বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার আরো মনে করেন, তেলের বাজার যদি আরো স্থিতিশীল ও নিম্নমুখী হয়, ডলার দুর্বল থাকে কিংবা ফেড যদি সুদের হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় বার্তা দেয়, তবে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত চড়াও হলে বা মার্কিন কর্মসংস্থান তথ্য শক্তিশালী এলে স্বর্ণের ঊর্ধ্বগতি থমকে যেতে পারে।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দরও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সোমবার স্পট সিলভারের (রুপা) দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৮.১৩ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৯.৩৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯৪.৯২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।




