রঙিন চুলের বাড়তি যত্ন 

চেহারায় একটু ভিন্নতা আনতে চুলের রং বদলে ফেলার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কালো চুলে হাইলাইট, ব্লিচ কিংবা পছন্দের কোনো রং ব্যবহার করে অনেকেই নিজের সাজে নতুন মাত্রা যোগ করেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হেয়ার কালারের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। তবে চুলের রং বদলে ফেলার এই সৌন্দর্যচর্চার সঙ্গে কিছু ঝুঁকিও জড়িয়ে আছে।

বাজারে বর্তমানে স্থায়ী, আধা-স্থায়ী ও অস্থায়ীÑবিভিন্ন ধরনের হেয়ার কালার পাওয়া যায়। প্রতিটি রঙের রাসায়নিক গঠন ও চুলে প্রভাব এক নয়। স্থায়ী হেয়ার কালারে সাধারণত অ্যামোনিয়ার মতো রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা চুলের স্বাভাবিক পিএইচের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। আধা-স্থায়ী রং চুলে তুলনামূলকভাবে কম সময় থাকে এবং চুলের বাইরের ও ভেতরের স্তরে সাময়িক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, অস্থায়ী রং সাধারণত চুলের গভীরে কম প্রবেশ করে। তবে কোনো রংকে শুধু ‘অ্যামোনিয়ামুক্ত’ লেখা দেখে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত মনে করারও কারণ নেই। কিছু পণ্যে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, প্যারা-ডাইয়ের মতো বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান থাকতে পারে। কালো চুলের রং হালকা করতে ব্যবহৃত ব্লিচও চুলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

মাথার ত্বকে হতে পারে অ্যালার্জি

হেয়ার কালার ব্যবহারের পর মাথার ত্বকে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কারো ক্ষেত্রে রং ব্যবহারের পরপরই সমস্যা শুরু হয়, আবার কারো ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা পরও উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চুলকানি, জ¦ালাপোড়া, লালচে হয়ে যাওয়া, ত্বকে ফোলাভাব কিংবা অস্বস্তিÑএসব হতে পারে অ্যালার্জির লক্ষণ। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া আরও বেশি হতে পারে। যাদের আগে থেকেই ত্বকের কোনো সমস্যা রয়েছে কিংবা কোনো ধরনের চিকিৎসা চলছে, তাদের হেয়ার কালার ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে ত্বকে এর প্রতিক্রিয়া কেমন হচ্ছে, সেদিকেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

দুর্বল হয়ে যেতে পারে চুলের গোড়া

চুলে বারবার রাসায়নিক প্রয়োগ করলে শুধু চুলের বাইরের অংশ নয়, চুলের সামগ্রিক গঠনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিয়মিত রং, ব্লিচ বা অন্যান্য রাসায়নিক ট্রিটমেন্টের কারণে চুল দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়লে চিরুনি করার সময় কিংবা সামান্য টানেও চুল উঠে আসতে পারে। ফলে সময়ের সঙ্গে চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে একসঙ্গে ব্লিচ ও হেয়ার কালার ব্যবহার করলে চুলের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

কমতে পারে চুলের ঘনত্ব

চুল দুর্বল হয়ে অতিরিক্ত ঝরতে শুরু করলে ধীরে ধীরে চুলের ঘনত্ব কমে যেতে পারে। শুরুতে বিষয়টি খুব একটা চোখে না পড়লেও দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়তে থাকলে মাথার কিছু অংশ তুলনামূলক ফাঁকা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত চুলে রং করলে শুধু নতুন রং কতটা সুন্দর হয়েছে, তা দেখলেই হবে না। চুলের গোঁড়া, চুল পড়ার পরিমাণ এবং চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্যও নজরে রাখতে হবে।

চুল হয়ে উঠতে পারে শুষ্ক ও রুক্ষ

চুলে রং করার পর সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি হলো চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া। রাসায়নিক উপাদানের কারণে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। এতে চুল তার আগের কোমলতা, মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা হারাতে পারে। অতিরিক্ত শুষ্ক চুল সহজেই জট বেঁধে যায় এবং আঁচড়ানোর সময় ভেঙে যেতে পারে। অনেক সময় চুলের ডগা ফেটে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়। তাই রং করা চুলের ক্ষেত্রে নিয়মিত পরিচর্যার প্রয়োজন আরও বেড়ে যায়।

চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে

চুলের আর্দ্রতা কমে গেলে শুধু চুল পড়াই নয়, চুল ভেঙে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ব্লিচ করার পর চুলের যতেœ অবহেলা করলে চুলের ডগা ও মাঝের অংশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বারবার হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লার ব্যবহারের সঙ্গে রাসায়নিক রংয়ের ব্যবহার যোগ হলে চুলের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। ফলে চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

রং করার পর কীভাবে চুলের যতœ নেবেন?

চুলে রং করার পর নিয়মিত কন্ডিশনিং করা গুরুত্বপূর্ণ। চুলের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে। চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে ময়েশ্চারাইজিং বা ডিপ কন্ডিশনিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া ঘন ঘন চুলে রং বা ব্লিচ করা এড়িয়ে চলা ভালো। রং করার পর অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং থেকেও চুলকে বিরতি দেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী চুলের ডগা ট্রিম করলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। একই সঙ্গে চুলে একের পর এক রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট না করাই ভালো। চুলের অবস্থা বুঝে পরবর্তী ট্রিটমেন্টের মধ্যে পর্যাপ্ত সময়ের ব্যবধান রাখা উচিত।